প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছে সরকার। নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব তথ্য জানান।
সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সময়নিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে আর কোনো দেরি সহ্য করা হবে না। কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
গণভোটের সংশোধিত গেজেট: ভোট কমলো প্রায় ১১ লাখগণভোটের সংশোধিত গেজেট: ভোট কমলো প্রায় ১১ লাখ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে সময়ের গুরুত্ব বোঝাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং অত্যন্ত সময় সচেতন এবং প্রতিদিন সকাল ৯টার আগেই তাঁর দপ্তরে উপস্থিত হন। এমনকি রাজধানীর যানজট এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে অনেক সময় তিনি প্রটোকল ছাড়াই খুব ভোরে সচিবালয়ে চলে আসেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই নিয়মমাফিক উপস্থিতি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘ইতিবাচক চাপ’ ও বাড়তি সচেতনতা তৈরি করেছে, যা পুরো কাজের পরিবেশে পরিবর্তন এনেছে।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত অফিস করা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব অফিস রয়েছে। তিনি প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো দিন সেখানে বসতে পারেন। তবে সেখানে উপস্থিত হওয়া বা অফিস করার বিষয়টি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
প্রশাসনে বড় ধরনের কোনো রদবদল বা পরিবর্তন আসছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব একে একটি ‘স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসতেই পারে এবং তা সময় হলেই দৃশ্যমান হবে।
জবাবদিহিতার নামে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ নয়: তথ্যমন্ত্রীজবাবদিহিতার নামে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ নয়: তথ্যমন্ত্রী
এদিনের ব্রিফিংয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এখন থেকে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের এই কঠোর অবস্থান মূলত জনপ্রশাসনে দায়বদ্ধতা তৈরি করার একটি বড় প্রয়াস। প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতাকে আদর্শ হিসেবে নিয়ে সরকারি কর্মচারীরা যদি দপ্তরে সময়মতো উপস্থিত হন, তবে তা সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।