আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করায় কুষ্টিয়া সদর ৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান চৌধুরী শিহাব।
রোববার দুপুরে কুষ্টিয়ায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি মামলা দায়ের করলে আদালত আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী সোলাইমান চৌধুরী বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি মানহানি মামলা দায়ের করেছি। মামলায় আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে অবমাননাকর মন্তব্য এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রুপমূলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য মামলা করা হয়নি। প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সমাজে শালীনতা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার স্বার্থেই আমি আইনানুগ পথ অবলম্বন করেছি। আদালত নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি বিবেচনা করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি এবং বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ করছি।
মামলার আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমির হামজার উপর যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোর্ট সিদ্ধান্ত দেবেন।’
এ বিষয়ে মুফতি আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার পিএস আবু বকর বলেন, ‘আদালত কর্তৃক এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের নোটিশ হাতে পায়নি। আমরা নোটিশ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
এরআগে, মুফতি আমির হামজাকে বিভিন্ন মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দাবি করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে আমীর হামজা লিখেন, ‘শনিবার থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি মৃত্যুর জন্য সবসময় প্রস্তুত ইনশাআল্লাহ। আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো, আমার অনুপস্থিতিতে কুষ্টিয়াতে যেই ইনসাফ কায়েমের লড়াই আমরা শুরু করেছি সেটা প্রতিষ্ঠিত কইরেন এবং আমার তিন শিশু কন্যা সন্তানকে একটু দেখে রাইখেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোনো এক ওয়াজ মাহফিলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নাম উচ্চারণে কুকুর বলেন তিনি। সম্প্রতি তার বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। গত ১৭ জানুয়ারি মুফতি আমির হামজা তার এই বক্তব্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে ক্ষমা চেয়েছেন।