April 5, 2026, 10:07 pm
Title :
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন চুক্তি নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনীতি-অর্থনীতিতে পরিবর্তন না এলে ফের গণঅভ্যুত্থান হতে পারে: পরিবেশ মন্ত্রী একজন পাইলটকে উদ্ধার করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলার মুহূর্তে ছাই! মৃত্যুর আগেও মানুষ মুখে পানি দেওয়ার সুযোগ দেয়, আপনি তাও দেন না: স্পিকারকে এমপি মনিরুল ইসরায়েলকে অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে না ফ্রান্স ৪৮১ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েলি জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা ইরানের বিরুদ্ধে সব ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পকে ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করলেন আইএইএ-র সাবেক প্রধান আলবারাদি বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে সই না করার ব্যাখ্যাটা তাদেরকেই দিতে হবে: রুমিন ফারহানা

ইরানের বিরুদ্ধে সব ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, April 5, 2026
  • 20 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ওয়াশিংটন তাদের হাতে থাকা অত্যাধুনিক জেএএসএসএম-ইআর ক্রুজ মিসাইলের প্রায় সম্পূর্ণ মজুদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি অন্যান্য অঞ্চলের সম্ভাব্য সংঘাতের মোকাবিলায় সংরক্ষিত ভাণ্ডার থেকেও এই শক্তিশালী মিসাইল সরিয়ে এনে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহারের জন্য জড়ো করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের মজুদ থেকে এসব অস্ত্র সরিয়ে সেন্ট্রাল কমান্ডের যুদ্ধক্ষেত্র এবং যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মজুদের বর্তমান অবস্থা
প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২৩০০টি জেএএসএসএম-ইআর মিসাইল মজুত ছিল। গত চার সপ্তাহের অভিযানে ইতিমধ্যে ১০০০টিরও বেশি মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এখন বিশ্বজুড়ে মার্কিন বাহিনীর জন্য মাত্র ৪২৫টি মিসাইল অবশিষ্ট থাকবে, যা অত্যন্ত সীমিত।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবশিষ্ট মজুদ দিয়ে মাত্র ১৭টি বি-১বি বোমারু বিমানের একটি মিশন পরিচালনা করা সম্ভব। বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

হোয়াইট হাউসের দাবি বনাম বাস্তবতা
হোয়াইট হাউস দাবি করছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ইরানি বাহিনীর গুলিতে ভূপাতিত হয়। এরপর উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া একটি এ-১০ অ্যাটাক জেট এবং দুটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও ইরানি গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের হামলায় ১২টিরও বেশি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। ফলে আকাশপথে মার্কিন আধিপত্যের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভাষণে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা ওদের প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে।

গুঞ্জন উঠেছে যে, ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে মার্কিন মেরিন ও প্যারাট্রুপার বাহিনী। তবে অত্যাধুনিক মিসাইলের মজুদ ফুরিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্র এখন পুরোনো বি-৫২ বোমারু বিমান দিয়ে সস্তা জেডিএএম বোমা ফেলার কৌশলে সরে যাচ্ছে।

ইরানের পাল্টা হামলা
ইরানও বসে নেই। আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান ইতিমধ্যে ১৬০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৪০০০-এর অধিক শাহেদ ড্রোন ছুড়েছে। এসব হামলা ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা) সরঞ্জামও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।

লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স কর্পোরেশন উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই সংঘাতে আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com