যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধ এড়াতে দফায় দফায় আলোচনায় বসছে উভয়পক্ষ। এরই মধ্যে আরো জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি) বাঙ্কার বাস্টার বোম কিনছে মার্কিন বিমানবাহিনী। এমনকি খুব দ্রুত এ সমরাস্ত্র পেতে চায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।
বিধ্বংসী এই ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করতে মার্কিন সমরাস্ত্র ও বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংকে অর্ডার বা কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। এর জন্য ইতোমধ্যে একটি চুক্তিও সই হয়েছে।
এর আগে গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এক ডজনেরও বেশি বাঙ্কার বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে অনলাইনে পোস্ট করা একটি নোটিশ অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা বোয়িংকে এই অর্ডার দিচ্ছে কারণ, অপারেশন মিডনাইট হ্যামারে শেষ হয়ে যাওয়া জিবিইউ-৫৭-এর মজুদ কমে গেছে। পুনরায় তা পূর্ণ করার জন্য এই সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি।
বোয়িং হলো একমাত্র কোম্পানি যারা জিবিইউ-৫৭ এমওপি তৈরি করে। এই বিশেষায়িত সমরাস্ত্রটির জন্য কেন পেন্টাগন কোনো উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করেনি, তা ব্যাখ্যা করতেই এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, এই প্রতিরক্ষা জায়ান্ট ১৮ বছর ধরে ‘এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে তারা এই বিশেষায়িত অস্ত্রটিকে পরিবর্তিত মিশনের প্রয়োজন অনুযায়ী খাপ খাইয়ে নিয়েছে; যা এমওপিকে প্রাথমিক ধারণা থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছে দিয়েছে।’
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্য কোনো কোম্পানিকে এই চুক্তি দিলে তা অগ্রহণযোগ্য বিলম্বের কারণ হতো।
নথিটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রয়োজনীয়তা পূরণে দেরি করলে বাহিনীর প্রস্তুতি এবং এই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কর্মসূচির দক্ষ সংগ্রহ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। বিলম্বের কারণে কমব্যাট্যান্ট কমান্ডারদের সক্ষমতা খর্ব হবে, বাহিনীর প্রস্তুতি ও কৌশলগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়বে, পারমাণবিক বিস্তার রোধ প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে এবং এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে।
তবে ঠিক কতগুলো বাঙ্কার বাস্টার বোমা কেনা হচ্ছে, চুক্তির মূল্য কত এবং সরবরাহের তারিখগুলো ঠিক কবে—তা প্রকাশ করা হয়নি।