February 11, 2026, 4:32 am
Title :
ভোটের ছুটিতে বাস-ট্রেন-লঞ্চে উপচে পড়া ভিড় ইসির ৮২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞায় পর্যটকশূন্য কক্সবাজার ভোট বেশি পড়লে বিএনপি, কম পড়লে জামায়াত সুফল পাবে: বিআইডিডি ভোটারদের জন্য বিনা ভাড়ায় লঞ্চ প্রার্থীদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশে বন্ধ হলো মোটরসাইকেল চলাচল ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় আইসিসি স্বীকার করার পরই খেলতে রাজি হয়েছি’: পিসিবি চেয়ারম্যান উত্তরায় পাখির চোখে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা দেবে র‍্যাব, প্রস্তুত থাকবে হেলিকপ্টার নির্বাচনে সরকারের নিরপেক্ষতায় আস্থা ৪৮ শতাংশ মানুষের ভোটের দিন নিজের পাড়াতেই ‘ঘরের ছেলে’ ফখরুল

খুলনা-১ আসন হিন্দুভোট হবে জয় পরাজয়ের ফ্যাক্টর

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, February 11, 2026
  • 3 Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে ১২ জন প্রার্থী এখন মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনে চতুর্মুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের আমির এজাজ খান, ইসলামিক ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের সুনীল শুভ রায়, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কৃষ্ণ নন্দী ও সিপিবির কাস্তে প্রতীকের কিশোর কুমার রায়ের মধ্যে। তবে জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ছাড়া আর সবাই সংসদীয় আসনটির স্থায়ী বাসিন্দা।

শহর লাগোয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত দাকোপ-বটিয়াঘাটা দুটি উপজেলা ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন খুলনা-১। এ আসনে ভোটার ৩ লাখ ২ হাজার ৬৪৪ জন। এর মধ্যে দাকোপে ভোটার আছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৭ জন।

এদিকে সর্বশেষ জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী, দাকোপে মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৯। এর মধ্যে হিন্দু ৮৬ হাজার ৭৬৬, মুসলিম ৬৯ হাজার ২১২, খ্রিষ্টান ৩ হাজার ৩৮১ এবং অন্যান্য ১০ জন। সে হিসাবে মুসলিম ৪৩.৪৩% এবং হিন্দু ভোটার ৫৪.৪৫%। সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মের ভোটার সংখ্যা বেশি থাকায় এই আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসাবে পরিচিত।

এবারের নির্বাচনে সনাতন ধর্মের ওপর নির্ভর করে হিন্দু প্রার্থী হয়েছেন ৮ জন। তারা হলেন-জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায়, বাংলাদেশ সমঅধিকার পরিষদের সুব্রত মণ্ডল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ হালদার ও অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।

আওয়ামী লীগের এই আসনটিতে এবার ভাগ বসাতে চায় বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগবিহীন এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে অভিজ্ঞ প্রার্থী বিএনপির আমির এজাজ খান। তার সঙ্গেই হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ২০০১ সালে প্রথমবার খুলনা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান আমির এজাজ খান। ভোট পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ৫২৩। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার ভোট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬৮ হাজার ৪২০। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ২৮ হাজার ৩৩২ ভোট পেয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তিনি দাকোপ-বটিয়াঘাটা এলাকায় কাটিয়েছেন।

আমির এজাজ খান বলেন, আমি সবসময় মাঠেই ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। দাকোপ একটি ভাঙনকবলিত এলাকা। এখানে উন্নয়ন হয়নি। বটিয়াঘাটায় নামেমাত্র উন্নয়ন হয়েছে। সুযোগ পেলে জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণ করব।

সিপিবির কিশোর কুমার রায় ইতঃপূর্বে দাকোপ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। সিপিবির প্রার্থী হিসাবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি বলেন, আশা করছি, জনগণ আমাকে বেছে নেবে।

জামায়াতে ইসলামী এই প্রথম ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে মনোনয়ন দিয়েছে। ফলে একটা আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। এই আসনে জামায়াতের কিছু রিজার্ভ ভোট রয়েছে। এর পাশাপাশি হিন্দুভোট টানতে পারলে তারও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলায় হওয়ায় কিছুটা নেতিবাচক প্রশ্নও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে প্রার্থীদের মধ্যে সুনীল শুভ রায় বেশ পরিচিত মুখ। ইতঃপূর্বে তিনি দুবার জাতীয় পার্টির হয়ে এ আসনে নির্বাচন করেছিলেন। এবার তিনি সম্মিলিত ইসলামিক ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। যা নিয়ে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কারণ তিনি সাবেক জাতীয় পার্টি ও সাবেক মহাজোট গঠনের কারিগর ছিলেন বলে আওয়ামী লীগের সমর্থন তার দিকে আসবে বলে সাধারণ মানুষের মত।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন মাঠে নামলেও সেভাবে ভিত্তি তৈরি করতে পারেননি। স্বতন্ত্র কলস প্রতীকের গোবিন্দ হালদার বিএনপির লোক ছিলেন। তবে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র দাঁড়ালেও ভোটাররা সেভাবে গ্রহণ করবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না।

ড. অচিন্ত মণ্ডল একজন শিক্ষিত ব্যক্তি ও চালনা পৌরসভার সাবেক মেয়র হলেও পেছনে কোনো দলের লেবেল না থাকায় ব্যক্তি ইমেজে কতদূর এগোতে পারবেন তা সময়ই বলে দেবে।

জেএসডির প্রসেনজিত দত্ত, গণঅধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী রোকনুজ্জামান, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পার্টির প্রবীর গোপাল রায় নির্বাচন করলেও জনসংযোগেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছেন, তেমন কোনো প্রচার নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com