রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় মো. আরিফ নামের এক ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। মারধরের শিকার ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তার বাবাকেও তিন ঘণ্টা জিম্মি করে রাখা হয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মোহাম্মদপুরে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের এক কর্মীর ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় অংশ নেন ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নান্নু, সাধারণ সম্পাদক জামাল, ১ নম্বর ঢাকা উদ্যান ইউনিট সভাপতি ইউসুফ আলী, ঢাকা উদ্যান ইউনিট সভাপতি জামাল উদ্দিন ও মো. রনজুনসহ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য।
স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লেদু হাসানের নেতৃত্বে হামলাকারীরা রাজনীতি করে। লেদু হাসান এর আগে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগে তিনবার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।
এ বিষয়ে আহত ছাত্রদল কর্মী আরিফ বলেন, “আমি ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মিছিল করেছি, বিক্ষোভ করেছি। এ জন্য অনেক সিনিয়র নেতা আমাকে সাবধান করেছিলেন। তাদের কথা না শোনায় আজ আমার ওপর এই হামলা হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বললে কেউ নিরাপদ নয়।”
মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বশির উল্লাহ বশির বলেন, “এসব হামলা করে মোহাম্মদপুরে কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। আরিফ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রাজপথে আমাদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেওয়ায় তার ওপর হামলা করা হয়েছে। এসব করে কেউ রক্ষা পাবে না। চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের এখানে কোনো স্থান হবে না।”
মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাকিবুল হোসেন (বাবু) বলেন, “ছাত্রদল প্রথম থেকেই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা রাজপথে মিছিল ও বিক্ষোভ করেছি। এতে অনেকের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। সে কারণেই আরিফের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে।”
সাকিব আরও বলেন, “আমাদের হস্তক্ষেপে আহত আরিফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার বাবাকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, এসব হামলা করে মোহাম্মদপুরে কোনো চাঁদাবাজ বা দখলবাজের স্থান হবে না।