April 11, 2026, 8:31 pm
Title :
জ্বালানির জন্য মরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা, ঝুঁকছে ইরানের দিকে ইরানের কাছে এখনো হাজারো সক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র: গোয়েন্দা রিপোর্ট সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য নয়াদিল্লি ও ঢাকা কাজ করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনার আগে তেহরানের কঠোর বার্তা, ‘ট্রিগারে থাকবে আঙুল’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের হরমুজে পাতা মাইন নিজেই খুঁজে পাচ্ছে না ইরান! চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে : র‍্যাব বিএনপির টিকিট চান বেবী নাজনীন–কনকচাঁপা পাকিস্তানের ব্যাপারে ৯০ শতাংশ ‘নেতিবাচক’ থেকে বিশ্ব এখন ৭০ শতাংশ ‘ইতিবাচক’ যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ, তারা আজকে রাবণ হয়ে গিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

পাকিস্তানের ব্যাপারে ৯০ শতাংশ ‘নেতিবাচক’ থেকে বিশ্ব এখন ৭০ শতাংশ ‘ইতিবাচক’

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, April 11, 2026
  • 1 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিতে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক সোশ্যাল লিসেনিং প্রতিবেদন জানায়, মার্চ মাসের শেষের দিকে পাকিস্তানের প্রতি যেখানে ৯০ শতাংশ নেতিবাচক ধারণা ছিল, বুধবারের (৮ এপ্রিল) পর তা উল্টে গিয়ে ৭০ শতাংশেরও বেশি ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে।

বিশ্ব জনমতের এই অভাবনীয় রূপান্তরের সূত্রপাত হয়েছিল ২৩ মার্চ, যখন পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সংশয় ছিল।

ইপসোস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তখন নেতিবাচক মনোভাবের পেছনে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আফগানিস্তান সংকট এবং পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে থাকা আস্থার অভাব প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং খোদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নাগরিকদের বড় একটি অংশ সরকারের কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

তবে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যখন দুই সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, তখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার সুর সম্পূর্ণ বদলে যায়। ইপসোস একে ডিজিটাল সংলাপে একটি ‘রূপান্তরমূলক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে পাকিস্তান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘থ্যাঙ্ক ইউ পাকিস্তান’ হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডিংয়ে চলে আসে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ও সাধারণ মানুষ এই শান্তি প্রচেষ্টাকে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের মধ্যকার কৌশলগত সমন্বয় বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও এই শান্তি প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এমনকি ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের সমালোচনা করা দেশগুলোর নাগরিকরাও এখন এই কূটনৈতিক সাফল্যের স্বীকৃতি দিচ্ছেন। ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একাংশকে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নিজেদের সরকারের সীমাবদ্ধতা নিয়েও মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের অবস্থান ‘বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র’ থেকে ‘প্রধান মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে পরিবর্তিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ মার্চ) থেকে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা এখন সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। শান্তি আলোচনার এই নতুন পথচলা পাকিস্তানের জন্য এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: দ্য নিউজ পাকিস্তান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com