বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি বিজড়িত বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নাম পুনর্বহাল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের পর ফ্যাসিস্ট অপশক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি তাদের ইউনিফর্ম পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে আমার একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করতে চাই, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করতে চাই। ভবিষ্যতে যাতে কখনোই এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেই লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে বিডিআর পিলখানা সেনা হত্যাযোগ দিবসটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
আজ শনিবার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আপনাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আমি এবং আমার স্ত্রী সত্যিকার অর্থেই কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি বা পড়ছি। বরাবরই সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীকে আমার কাছে একটি বৃহত্তর পরিবার বলেই মনে হয় বা আমরা মনে করি। এর কারণ হয়তো সেনানিবাসে আমার এবং আমার পরিবারের বেড়ে ওঠা। অনেক ছোট বয়সে বাবাকে হারিয়েছি। তবে বড় হয়ে দেখেছি সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা মরহুমা খালেদা জিয়াও এক ধরনের নির্ভরতা ছিল, সম্মান ছিল। আমার মা সবসময় মনে করতেন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য বাংলাদেশের অবশ্যই একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে- আমি এ ধরনের কথা বলতে চাই না। বরং গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, গৌরব অর্জনের বিষয়, গৌরব ধারণ করার বিষয়। সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে হবে। সেনাবাহিনীর নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরকে সতর্ক এবং সচেতন থাকতে হবে। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে, একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে আমি এতটুকু বলতে পারি জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলন্ঠিত হয়.. এমন কিছু বিএনপি অতীতেও করেনি, বর্তমানেও না এবং ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও বিএনপি করবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাও ইনশাল্লাহ অক্ষুণ্ণ থাকবে। সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে। তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া অবশ্যই উচিত হবে না। রাজনীতির চাদরে যাতে পেশাদারিত্ব আচ্ছাদিত না হয়ে যায় এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর প্রতিটি কর্মকর্তা এবং সদস্যকে অবশ্যই অত্যন্ত সচেতন থাকা জরুরি।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াসহ শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে তারেক রহমান সকল অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করে কুশল বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর যে নিপীড়ন-নির্যাতনের নানা ঘটনা তুলে ধরে ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা ও বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা নিহত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভুঁইয়া বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দেন তারেক রহমান।