February 8, 2026, 4:52 am
Title :
মাদকমুক্ত টেকনাফ গড়ার ঘোষণা এমপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর ‘দেশের মানুষ কোনো অদৃশ্য শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না’ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিডিআর নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে: তারেক রহমান কোনো কোনো রাজনৈতিক দল অস্ত্রের মজুত করছে: আসিফ মাহমুদ নারায়ণগঞ্জে এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে গেল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপির কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে লিভ টু আপিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান-শিল্প প্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব: সেনাপ্রধান ‘প্রেমিকের সহায়তায়’ মেয়েকে হত্যার পর ট্রাংকে লুকিয়ে রাখেন মা শেখ হাসিনার দুলাভাই পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক যোগ দিলেন বিএনপিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে ঘাম ছুটল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের

ভুয়া মানসিক হাসপাতাল ও বীমা জালিয়াতি: বার্ধক্য জনসংকটে চীনের লড়াই

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, February 7, 2026
  • 15 Time View

চীনে ভুয়া মানসিক হাসপাতালের বিস্তার এবং সরকারি স্বাস্থ্য বিমা ব্যবস্থাকে ঘিরে সংঘটিত প্রতারণার ঘটনা দেশটির ক্রমবর্ধমান বার্ধক্য সংকটের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।

আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে বেসরকারি কিছু মনোরোগ হাসপাতাল ভুয়া অজুহাতে রোগী ভর্তি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা তহবিল আত্মসাৎ করছে।

চীনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বেইজিং নিউজের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুবেই প্রদেশের শিয়াংইয়াং ও ইচাং শহরে ডজনেরও বেশি মনোরোগ হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে অতি সামান্য ফি বা কখনো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের ভর্তি করানো হচ্ছে। সাধারণত চীনে চিকিৎসা ব্যয় সরকারি স্বাস্থ্য বিমার আওতায় থাকলেও রোগীদের নির্দিষ্ট অংশের খরচ নিজে বহন করার কথা। কিন্তু এই ভুয়া হাসপাতালগুলো সেই ব্যবস্থাকে কৌশলে অপব্যবহার করছে।

এক অনুসন্ধানী সাংবাদিক ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেন, প্রতিদিন একজন রোগীর চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১৪০ ইউয়ান খরচ দেখানো হচ্ছে এবং এর বড় অংশই সরকারি বিমা তহবিল থেকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম হলেও, কিছু প্রতিষ্ঠানে শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে।

এই রোগীদের বড় অংশই মাদকাসক্ত ও প্রবীণ মানুষ—যাদের বিনামূল্যে খাবার ও আশ্রয়ের লোভ দেখিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভয়াবহ।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এসব হাসপাতালে অমানবিক পরিবেশ বিরাজ করছে, শারীরিক ও মৌখিক নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। রোগীদের দিয়ে জোরপূর্বক হাসপাতাল পরিষ্কার করানো, অন্য রোগীদের গোসল করানোসহ নানা ধরনের শ্রমমূলক কাজ করানো হতো।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—একবার ভর্তি হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের হাসপাতাল ছাড়তে দেওয়া হতো না। কোনো কোনো রোগীকে বছরের পর বছর সেখানে আটকে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনা চীনের বর্তমান প্রবীণ পরিচর্যা ব্যবস্থার মৌলিক সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশটির নীতিগত কাঠামো এখনো ধরে নেয় যে, অধিকাংশ প্রবীণ মানুষ পরিবারেই পরিচর্যা পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের প্রবীণরা এই প্রতারণার সবচেয়ে বড় শিকার। সেখানে পেনশনের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য এবং সরকারি সেবাও দুর্বল। উপরন্তু, কাজের সন্ধানে তরুণ প্রজন্ম শহরমুখী হওয়ায় বহু গ্রাম কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে অসংখ্য প্রবীণ মানুষ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, নিঃসঙ্গ এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এই ভুয়া হাসপাতাল ও বিমা কেলেঙ্কারি কেবল একটি আর্থিক প্রতারণা নয়, এটি চীনের দ্রুত বার্ধক্যমুখী সমাজব্যবস্থার গভীর মানবিক সংকটের এক নির্মম দলিল।

দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ানের অনুবাদ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com