February 18, 2026, 3:56 am

রমজানের চাঁদ দেখার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, February 18, 2026
  • 13 Time View
রমজান হিজরি বর্ষপঞ্জির নবম মাস এবং মুমিনের জন্য ইবাদত-বন্দেগির মাস। মুমিন রমজান মাসের জন্য অপেক্ষা করে এবং শাবান মাসের শেষ ভাগে রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান করে। মহানবী (সা.) রমজানের চাঁদ অনুসন্ধান করতেন এবং মানুষকে সুসংবাদ দিতেন। তাই রমজানের মাসের চাঁদ উদিত হলে মুমিন আনন্দিত হয়। রমজানের চাঁদ দেখা মুস্তাহাব।

আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের খুব হিসাব করতেন। এ ছাড়া অন্য কোনো মাসের এত হিসাব করতেন না। এরপর রমজানের চাঁদ দেখে রোজা রাখতেন। আকাশ মেঘলা থাকার কারণে চাঁদ দেখা না গেলে শাবান মাস ৩০ দিনে গণনা করতেন, অতঃপর রোজা রাখতেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৩২৫)

শুধু রমজান নয়, বরং সারা বছর চাঁদের মাসের হিসাব রাখা সামষ্টিকভাবে মুসলমানের জন্য আবশ্যক এবং ব্যক্তিগতভাবে উত্তম। কেননা এর সঙ্গে আল্লাহ মুসলমানদের ইবাদতকে সম্পৃক্ত করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা তোমার কাছে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, এগুলো মানুষ ও হজের জন্য সময় নির্দেশক।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৯)

আয়াতে ‘আহিল্লা’ অর্থাৎ নতুন চাঁদকে মানুষের সময় নির্ধারণের মাধ্যম বলা হয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লেখেন, চাঁদের আবির্ভাবের মাধ্যমে ইবাদতের সময় নির্ধারণ করা আল্লাহর একটি হিকমতপূর্ণ বিধান। রমজানের রোজা, ঈদুল ফিতর ও হজ—সবই চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম জাতিকে চাঁদ দেখে রোজার রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ কোরো। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তবে তোমরা শাবান মাসকে ৩০ দিনের গণ্য কোরো।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২১১৭)

হাদিসবিশারদরা বলেন, হাদিসে নবীজি (সা.) আদেশসূচক শব্দ ব্যবহার করেছেন। তাই এটাও প্রমাণিত হয় যে, মুসলমানের জন্য সম্মিলিত ভাবে চাঁদ দেখা আবশ্যক (অর্থাৎ ফরজে কেফায়া)। আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদেশের সর্বনিম্ন স্তর হলো মুস্তাহাব। এটা এককভাবে ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ব্যাপকভাবে চাঁদের অনুসন্ধান করতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘লোকেরা রমজানের চাঁদ অন্বেষণ করছিল। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালাম যে, আমি চাঁদ দেখেছি। অতঃপর তিনি নিজেও রোজা রাখলেন এবং লোকদেরকেও রমজানের রোজা পালনের আদেশ দিলেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৪২)

হাফেজ ইবনে হাজার আস্কালানি (রহ.) বলেন, ‘চাঁদ দেখা শুধু ফরজ রোজার সূচনার জন্য নয়; বরং এটি সুন্নাহর অনুসরণ। তা একটি ইবাদতপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক।’ (ফাতহুল বারি, রোজা অধ্যায়)

নতুন চাঁদ দেখার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করতেন—উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আহলিলহু আলাইনা বিল-ইয়ুমনি ওয়াল-ঈমান ওয়াস-সালামাতি ওয়াল-ইসলাম; রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।’

অর্থ : হে আল্লাহ, আমাদের জন্য চাঁদটিকে বরকতময় (নিরাপদ), ঈমান, নিরাপত্তা ও শান্তির বাহন করে উদিত করুন। (হে নতুন চাঁদ) আল্লাহ আমার ও তোমার প্রভু। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫১)

রমজান মাসের চাঁদ দেখা কেবল ক্যালেন্ডার নির্ধারণের বিষয় নয়; এটি একটি ইবাদত, সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য। আমাদের উচিত এ সুন্নাহকে জীবিত রাখা এবং চাঁদ দেখে আল্লাহর স্মরণে রমজানকে স্বাগত জানানো। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দিন। আমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com