নিউজ ডেস্ক:
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভেঙে গেল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে বিদায়ী উপদেষ্টা পরিষদের অনেকের বিরুদ্ধে আনীত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে বেশ কজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। তবে দুদকে দাখিল করা অভিযোগের তালিকায় সবার উপরে আছেন সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের ছাত্র প্রতিনিধি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়ার।
দুদক সূত্রে জানা যায়, আসিফের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে।
দুদকের অপর দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই অভিযোগগুলোর একটি বড় অংশ করেছেন সরাসরি ভুক্তভোগীরা, যেখানে স্ব স্ব নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে ঘুষ প্রধান ও অনিয়মের তথ্য প্রদান করেছেন তারা।
এমনকি বেআইনী কাজ হাসিলের উদ্দেশ্যে ঘুষ নিয়ে পরবর্তীতে কাজ না করানোর অভিযোগের সঙ্গে আছে তথ্য-প্রমাণাদি।
পাশাপাশি ক্রিপটোকারেন্সি ও মানিলন্ডারিং সম্পর্কিত অভিযোগও উঠে এসেছে এসব তথ্যে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। একইসাথে চাঁদাবাজির অভিযোগ,স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়েও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হবার সুবাদে ক্রিকেট বোর্ড গঠনে সরাসরি হস্তক্ষেপের মত অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
অপরদিকে নিষিদ্ধ ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকে নিয়োগের সুপারিশ অর্থাৎ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক হিসেবে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরীরের নেতা মোহাম্মদ এজাজকে প্রথা ভেঙে নিয়োগের জন্য সরাসরি সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। কথিত সদ্য মেয়াদ শেষ হওয়া ডিএনসিসির প্রশাসক এজাজের বিরুদ্ধেও বর্তমানে দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত করছে দুদক।
এছাড়াও উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার সময় তার নিজের ও পরিবারের সম্পদের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ না করার বিষয়টিও অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।