যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আবারও বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প কিমের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেন। গুঞ্জন রয়েছে যে, আগামী নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে এই দুই নেতা আলোচনার টেবিলে বসতে পারেন। যদিও ট্রাম্প বৈঠকের বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি, তবে কিমের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের যৌথ সামরিক মহড়ার ব্যাপ্তি কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, উত্তর কোরিয়ার নেতার জন্য এসব মহড়া আপত্তিকর। তাই কিমের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সামরিক মহড়ার সময়সীমা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, মহড়া সংক্ষিপ্ত হলেও সামরিক প্রশিক্ষণের মানে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়ে তারা কোনো তথ্য জানেন না, যদিও কিমের মনে ট্রাম্পের জন্য ইতিবাচক স্মৃতি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে মোট তিনবার সরাসরি বৈঠক হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে সেই ঐতিহাসিক বৈঠকগুলো সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিতে খুব একটা দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ ট্রাম্পের জন্য বৈদেশিক নীতিতে বড় কোনো সাফল্য বয়ে আনতে পারে, যদিও এই সিদ্ধান্ত এশিয়ার মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।