ভালো দাম পাওয়ার আশায় হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলু এখন বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে আলুর চাহিদাও কম এবং দামও আশানুরূপ নয়। চার মাস পার হওয়ার পরও হিমাগারে পড়ে থাকা আলু একদিকে পচে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুল মূলধন আটকে থাকায় কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এর ফলে আসন্ন আমন চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতেও তারা হিমশিম খাচ্ছেন। হিমাগারের গেটে বর্তমানে প্রতি বস্তা আলুতে কৃষকের প্রায় ৪৪০ থেকে ৪৮০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হিমাগারের বস্তা খুললেই পচা ও নষ্ট আলুর স্তূপ বেরিয়ে আসছে। পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি ও বাছাইয়ের বাড়তি ব্যয়ের কারণে ব্যবসায়ীরাও আলু কেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে আলুর সরবরাহের চাপে দাম পড়ে গেছে, কিন্তু সেই তুলনায় প্রক্রিয়াজাত শিল্প বা রপ্তানির বাজার প্রসারিত না হওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আলু খালাসের হার অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির অশনিসংকেত দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু হিমাগারে সংরক্ষণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এছাড়া উৎপাদন পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত মূল্যশৃঙ্খলে সমন্বয়ের অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের ফলে কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদে এই অস্থিরতা নিরসনে পরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানি সহায়তার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।