তুরস্ক ও ইসরায়েলের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ও সামরিক মৈত্রী বর্তমানে চরম সংকটের মুখে। নব্বইয়ের দশকে দুই দেশের যে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা ছিল, তা ফিলিস্তিন ইস্যু এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে বর্তমানে গভীর বৈরিতায় রূপ নিয়েছে। বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে; গাজা যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় তুরস্ক সম্প্রতি ইসরায়েলের সাথে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করেছে, যা এক সময়ের কয়েক বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে সিরিয়া নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় তুরস্কের বর্ধিত সামরিক উপস্থিতিকে ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করছে। সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং পাল্টা সতর্কবার্তার কারণে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের আইনি তৎপরতা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রচেষ্টা কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কম থাকলেও সিরিয়ার মতো বিতর্কিত অঞ্চলে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সীমিত সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তুরস্ক নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প, বিশেষ করে ‘স্টিল ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। একই সাথে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঙ্কারা একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৌশল অবলম্বন করেছে। এরদোগানের মূল লক্ষ্য এখন সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো নয়, বরং সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইসরায়েলের আগ্রাসনকে নিয়ন্ত্রণ করা।