দেশের বাজারে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এই দুটি নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি আমদানিতে শর্ত সাপেক্ষে শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ বা কিছুটা অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সম্প্রতি এসংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা জারির দিন থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই বিশেষ কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী মোট ৬০ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কাস্টমস আইন এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নমনীয়তা দেখানো হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিদেশ থেকে পণ্য এনে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে পারেন।
প্রজ্ঞাপনের শর্তাবলি অনুযায়ী, শুল্ক অব্যাহতির সুবিধাটি দুটি ভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হবে। প্রথম ৩০ দিনের জন্য আমদানিকারকদের কাস্টমস শুল্কের ক্ষেত্রে মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত অংশ, সব ধরনের রেগুলেটরি ডিউটি এবং মূল্যভিত্তিক ১০ শতাংশের অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক দেওয়া থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়া হবে। এরপরের অর্থাৎ ৩১তম দিন থেকে ৬০তম দিন পর্যন্ত কাস্টমস শুল্কের মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত অংশ ও রেগুলেটরি ডিউটি মওকুফ থাকলেও সম্পূরক শুল্কের অব্যাহতি আর বহাল থাকবে না।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম বেশ চড়া রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের মাঠ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাঁচা মরিচসহ নানা ধরনের সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া টমেটো মূলত শীতকালীন একটি সবজি হওয়ায় বছরের অন্যান্য সময়ে এর দাম এমনিতেই কিছুটা চড়া থাকে। আশা করা হচ্ছে, সরকারের এই শুল্ক হ্রাসের ফলে আমদানিকারকরা উৎসাহিত হবেন এবং দ্রুত বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ভূমিকা রাখবেন।