কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থাতেও শিক্ষা ছুটির নামে সরকারি বেতন উত্তোলনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা মিলেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ ডিগ্রি কলেজে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শিক্ষা বিভাগ নড়েচড়ে বসে এবং ঘটনার অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কলেজটি সরেজমিন পরিদর্শন করে শিক্ষক ও অধ্যক্ষের অনিয়মের বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করেন। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, কলেজটির ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবু বিভিন্ন প্রতারণার মামলায় কারাগারে থাকার সময়ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছিলেন। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ছুটির জন্য গভর্নিং বডির লিখিত অনুমোদন এবং দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক হলেও তিনি তা করেননি। ফৌজদারি অপরাধে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় সরকারি কোষাগার থেকে এভাবে অর্থ আত্মসাৎ করা প্রচলিত নিয়মের চরম লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষকের মাসিক বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত করার পাশাপাশি অবৈধভাবে নেওয়া অর্থ সরকারি ফান্ডে ফেরতের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, মীরবাগ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধেও গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েকদিন আগে আবেদন করে তিনি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিজের চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। বিধি লঙ্ঘন করে মেয়াদ বৃদ্ধির এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে অবৈধ ঘোষণা করে তাকে অবিলম্বে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষককে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবু এর আগে হজে লোক পাঠানো এবং চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন। ভুক্তভোগীদের দায়ের করা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক মামলায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। কারাবাসের সেই সময়ে কলেজের উপস্থিতি খাতায় তার নামের পাশে শিক্ষা ছুটি দেখিয়ে এমপিও থেকে নিয়মিত বেতন তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।