September 12, 2026, 7:58 pm

দৌড়েই স্বপ্নজয়, সুইটি আক্তারের ৮০ ম্যারাথন নারীদের অনুপ্রেরণা

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, September 8, 2026
  • 20 Time View

ভোরের স্নিগ্ধ আলো ফোটার আগেই নিজের দিনের কার্যক্রম শুরু করেন প্রতিভাবান অ্যাথলেট সুইটি আক্তার, যিনি পরিচিত মহলে সুইটি কবির হিসেবেও পরিচিত। আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ আর্মি স্টাফ কলেজের সুইমিং কোচের দায়িত্ব পালন করা এই নারী নিয়মিত ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তার কাছে ম্যারাথন কেবল কোনো শারীরিক ব্যায়াম বা শখের বিষয় নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিজের নির্ধারিত সীমাকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার এক অদম্য সাধনা। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি গভীর অনুরাগ থাকা সুইটি সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে নিজের ব্যস্ত শিক্ষাজীবন, পেশাগত দায়িত্ব এবং কঠিন ক্রীড়া অনুশীলনকে চমৎকারভাবে একসঙ্গে সামলিয়ে যাচ্ছেন।

দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত ৮০টিরও বেশি ম্যারাথন এবং রানিং ইভেন্টে সফলভাবে অংশ নিয়েছেন সুইটি আক্তার। তার এই সমৃদ্ধ দৌড়যাত্রার তালিকায় রয়েছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ম্যারাথন, বাংলাদেশ পুলিশ আয়োজিত জয় বাংলা ম্যারাথন এবং জলসিঁড়ি ম্যারাথনের মতো স্বনামধন্য সব প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিনের নিয়মিত চর্চা এবং মাঠের অভিজ্ঞতা তাকে কেবল একজন দক্ষ রানার হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেনি, বরং তিনি বিকেএসপি সার্টিফাইড অ্যাথলেটিক্স কোচ হিসেবেও স্বীকৃতি লাভ করেছেন। আধুনিক কোচিং পদ্ধতি, সঠিক রানিং কৌশল, ইনজুরি প্রতিরোধ এবং পারফরম্যান্স উন্নয়নের বাস্তব জ্ঞান অর্জন করার পর তিনি এখন উদীয়মান ও অভিজ্ঞ রানারদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করে দিচ্ছেন।

একজন নারী হিসেবে সমাজের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না বলে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন এই ক্রীড়াবিদ। নিয়মিত অনুশীলনের জন্য উপযুক্ত সময় বের করা, পারিবারিক দায়িত্ব ও কর্মক্ষেত্র সামলানো, নিরাপদ পরিবেশে দৌড়ানোর ব্যবস্থা করা এবং দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়ের কারণে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক চাপ মোকাবিলা করা ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে তার এই দীর্ঘ অভিযাত্রায় সবসময় পাশে পেয়েছেন তার স্বামী, যিনি নিজেও একজন নিয়মিত ম্যারাথন রানার, পাশাপাশি তার শিক্ষক, কোচ ও পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রতিনিয়ত সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে গেছেন। ম্যারাথনে তার এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিকবার পোডিয়াম ফিনিশ করেছেন এবং অর্জন করেছেন অসংখ্য মেডেল, সার্টিফিকেট ও সম্মাননা।

নিয়মিত দৌড়চর্চা মানুষের হৃদযন্ত্রকে সুস্থ ও সবল রাখে, শরীরের সহনশীলতা বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ দূর করে আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলে বলে দৃঢ় বিশ্বাস করেন সুইটি। খেলাধুলায় আগ্রহী নতুনদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, প্রথমে সাধারণ হাঁটার মাধ্যমে শুরু করে ধীরে ধীরে ছোট দূরত্বে দৌড়ানো উচিত এবং সবসময় সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি ও উপযুক্ত রানিং জুতা ব্যবহার করা আবশ্যক। ভবিষ্যতে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আরও বড় আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে দেশের পতাকা উড্ডীন করার পাশাপাশি দক্ষ কোচ হিসেবে নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেট তৈরি করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। বিশেষ করে নারীদের খেলাধুলায় আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করতে এবং সমাজে সুস্থ জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তা ছড়িয়ে দিতে তিনি নিজের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com