শিশুদের মারাত্মক রোগ হাম থেকে সুরক্ষিত রাখতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, শিশুদের এই বিপজ্জনক রোগ থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে টিকা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিও ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় উপজেলা বিএনপি ও একটি ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে হাসপাতালে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে, তাদের সিংহভাগই নির্ধারিত সময়ে টিকা নেয়নি। আর এই অবহেলার কারণেই দেশে এখনো হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে, পূর্ববর্তী প্রশাসনের রেখে যাওয়া শূন্যতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে মাত্র ২১ দিনের মধ্যে দুই কোটি টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার সরকার গ্রহণ করেছে, তা বাস্তবায়নে প্রশাসন সর্বতোভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে পুষ্টিহীনতা ও শিশু মৃত্যুর হার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান যে, অতীতেও হামের সংক্রমণ হতো, তবে সে সময় পুষ্টির ঘাটতি ও নিউমোনিয়ার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুষ্টিহীনতার শিকার শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছে, যার প্রধান প্রতিরোধক হলো সময়মতো টিকা দেওয়া। কোনো শিশু যেন হঠাৎ করে এই ধরনের preventable রোগে আক্রান্ত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার টিকাদান কার্যক্রম সর্বদা সচল রাখবে।
উক্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে মন্ত্রী ছাড়াও নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।