বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের মুম্বাইয়ের বাসভবনে বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। শহরটির চার্চগেট এলাকায় অবস্থিত এই বাড়ি থেকে সোনা ও হীরার মূল্যবান গয়না উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিনেত্রীর মা আশা প্যাটেল নিজে বাদী হয়ে থানায় এই চুরির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসের দিকে ওই বাসভবন থেকে একটি দামি হীরার বালা হারিয়ে যায়। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি বলে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই বাড়ির গৃহপরিচারিকা সীমার ওপরে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয় আশা প্যাটেলের। পরবর্তীতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে ওই পরিচারিকাকে বারবার অনুরোধ করা হয় যেন তিনি চুরির কথা স্বীকার করে গয়নাটি ফিরিয়ে দেন।
তবে গৃহপরিচারিকা গয়না ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে উপায় না পেয়ে মেরিন ড্রাইভ থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন আমিশার মা। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৬ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের ক্রাইম ডিটেকশন টিম আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্ত পরিচারিকাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে বীরার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মেরিন ড্রাইভ থানার পুলিশ। সেখান থেকেই আমিশার বাড়ির ওই গৃহপরিচারিকাকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে পুলিশি তৎপরতা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া সেই মূল্যবান হীরার বালা কিংবা অন্যান্য গয়না উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গ্রেফতারকৃত নারী প্রায় দেড় বছর ধরে ওই বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। অতীতে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হলেও পুরো বিষয়টি এখনো পুলিশের নিবিড় তদন্তের অধীনে রয়েছে। চুরি যাওয়া গয়নাগুলো উদ্ধার করা এবং এই ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।