November 4, 2026, 12:01 am
Title :
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জনের আহ্বান ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরও কূটনীতির পক্ষে ইরান প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, মেধাকে গুরুত্ব দিন: ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক থেকে দুবাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাফেজদের ‘নেক্সাস’ উপহার! নেপথ্যে কারা? পটুয়াখালীতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত দর্জি থেকে ফ্রিল্যান্সার, প্রশিক্ষণ থেকে উদ্যোক্তা—তরুণদের সাফল্যের অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে ব্যুরো বাংলাদেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৯০ হাজার টাকা

দর্জি থেকে ফ্রিল্যান্সার, প্রশিক্ষণ থেকে উদ্যোক্তা—তরুণদের সাফল্যের অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প

Reporter Name
  • Update Time : Friday, September 18, 2026
  • 326 Time View

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও পটুয়াখালী জেলার প্রশিক্ষণার্থীরা। “দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত Freelancing Career & Success Story Sharing Session-এ তারা নিজেদের সফলতার গল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কিশোর চন্দ্র বালা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আতাহার আলী। অনুষ্ঠানে ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও পটুয়াখালী জেলার কো-অর্ডিনেটর, প্রশিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাচগুলোর প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নেন।

সেশনটিতে প্রশিক্ষণার্থীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ে তাদের যাত্রা, কাজের অভিজ্ঞতা, আয়, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অনলাইন ও স্থানীয় বাজারে কাজের সুযোগ তৈরি, আয় বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা।

প্রশিক্ষণার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য-

পটুয়াখালী জেলার ৪র্থ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী তাজমিরান জাহান শিরিন ফেসবুক মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৬০০ মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।

পঞ্চম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী আইয়ুব আলী লোকাল মার্কেটপ্লেস থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করার পাশাপাশি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় একটি স্টেশনারি ও প্রিন্টিং ব্যবসা শুরু করেছেন।

ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী আদিবা আয়মান মায়দা লোকাল মার্কেটপ্লেস থেকে প্রায় ২২ হাজার টাকা আয় করেছেন। পাশাপাশি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে পাওয়া পার্মানেন্ট ক্লায়েন্টদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন।

পটুয়াখালীর ৪র্থ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী ইকরামুল হক ২০১৯ সাল থেকে ফ্রিল্যান্সিং এর যাত্রা শুরু হলেও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে কিছুদিন পর তার যাত্রা থেমে যায়, পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড এর মাধ্যমে নিজেকে আরো বেশি দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে এখন তিনি নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি মাসে গড়ে ৬০–৭০ হাজার টাকা আয় করছেন; অনলাইন ও স্থানীয় কাজ মিলিয়ে তাঁর মোট আয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য।

ঝালকাঠি ব্রাঞ্চের ৪র্থ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী মুয়াবিয়া মোশন গ্রাফিক ডিজাইন ও AI-ভিত্তিক কাজে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে প্রায় ৫০ মার্কিন ডলার এবং স্থানীয় বাজারে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

ঝালকাঠির ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী লিজা জানান Fiverr থেকে প্রায় ১২০ মার্কিন ডলার আয় করেছেন। একই জেলার আরেক প্রশিক্ষণার্থী আব্দুল্লাহ মামুন Fiverr-এ ২২টি কাজ সম্পন্ন করে ২,৬০০ মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে জানান।

পিরোজপুর ব্রাঞ্চের প্রশিক্ষণার্থী মুজাহিদ Adobe Stock-এর মতো প্যাসিভ মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাঁর মতে, অ্যাকটিভ মার্কেটপ্লেসের পাশাপাশি প্যাসিভ মার্কেটপ্লেসেও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ রয়েছে। তিনি স্টক মার্কেটপ্লেস থেকে এবং অন্যান্য মার্কেটপ্লেস মিলিয়ে ৫০ মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছেন। বর্তমানে AI প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের দক্ষতা আরও উন্নত করার চেষ্টা করছেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত সাফল্যের গল্প ছিল উম্মে হাবিবার। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, একসময় দর্জির কাজ থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে এসেছেন এবং নিজেকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করতেন। বর্তমানে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচয় দেন এবং Fiverr, Upwork ও লোকাল মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন।

এছাড়া দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী মইনুল ইসলাম মইন Fiverr, Upwork ও Freelancer.com-এর মতো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর মোট আয় ১,৭০০ মার্কিন ডলারের বেশি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণরা শুধু ফ্রিল্যান্সিংয়েই নয়, স্থানীয় পর্যায়েও কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। প্রশিক্ষণার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প নতুন ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্বও তুলে ধরে।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন প্রশিক্ষণার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com