পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, আমি প্রথমেই বলতে চাই, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সালথার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে হবে। দলপক্ষের নামে মারামারি ও বন্দুকবাজি বন্ধ করতে হবে। এগুলো করে কোনো লাভ হয় না।
হাসপাতালে যেতে হয়, মামলা হয়। কিন্তু আসলে আমাদের কোনো লাভ হয় না।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের বিএনপির যে নেতাকর্মীরা মঞ্চে বসে আছেন, সামনে আমার যারা মুরুব্বি আছেন আপনাদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান ও নির্দেশনা থাকবে, সব ধরনের অপকর্ম থেকে দূরে থেকে এই রমজান মাসে জনগণের পাশে থাকবেন।
জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। কোনো উল্টাপাল্টা কাজ, কোনো দুই নম্বর কাজে যদি কাউকে জড়িত হতে দেখি, তাহলে আইন আইনের গতিতে চলবে। সে যে দলেরই হোক, যে মতেরই হোক, যে ঘরেরই হোক, তা কোনো বিষয় নয়। আমার দায়িত্ব সবার জন্য।
যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা ভোট দেননি- আমি সবার। আমি শুধু বিএনপির এমপি নই।
সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ বলেন, মারামারি বন্ধ করে কীভাবে সমগ্র উপজেলায় উন্নয়ন করা যায়, আমাদের ভাই-বোন যারা ইয়াং জেনারেশন, তাদের ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে কাজ করা যায়, আমাদের শিক্ষার ব্যবস্থা কীভাবে উন্নত করা যায়, রাস্তাঘাট কীভাবে ঠিক করা যায়, সেগুলোতে আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
শামা ওবায়েদ বলেন, আপনাদের মেয়ে হিসেবে আমি আজ এখানে এসেছি।
এখনে এমপি বা মন্ত্রী হিসেবে আসিনি। আপনাদের সন্তান হিসেবে, আপনাদের মেয়ে হিসেবে সবসময় আপনাদের সঙ্গে কথা বলি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনাদের সন্তান ও মেয়ে হিসেবে থাকতে চাই। আর কোনো পরিচয় আমার দরকার নেই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ এখানে প্রশাসনের যে কর্তাব্যক্তিরা আছেন, আমাদের কর্মকর্তারা আছেন, এসপি আছেন, আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আছেন। তাদের প্রতি আমি অনুরোধ করব— আপনারা জনগণের পাশে থাকবেন, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তা নিরসনে সহযোগিতা করবেন।
শামা ওবায়েদ এ এলাকায় অবিসংবাদিত নেতা, তার পিতা প্রয়াত ওবায়দুর রহমানের কথা স্মরণ করে বলেন, এই এলাকার যত মানুষ আছেন, সবার পাশে আমার বাবা সারাজীবন ছিলেন। তিনি এমপি থাকাকালীন ছিলেন, মন্ত্রী থাকাকালীন ছিলেন, এমনকি যখন কিছুই ছিলেন না, তখনও আপনাদের পাশে ছিলেন। সুতরাং আমিও এলাকার মানুষের পাশে আছি, সবার পাশে আছি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করা আমার দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যেন আমি সঠিকভাবে পালন করতে পারি, সে জন্য আপনারা দোয়া করবেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইতিমধ্যেই ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের সরকার শপথ নেওয়ার ১১–১২ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার এসেছে, তার ১১ দিনের মাথায় সারা বাংলাদেশে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হচ্ছে। ধীরে ধীরে দেশের প্রত্যেক উপজেলা ও ইউনিয়নে এই ফ্যামিলি কার্ড ছড়িয়ে পড়বে।
শামা ওবায়েদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় ১১–১২ লাখ কৃষক এর সুবিধা পাবেন। এতে কৃষকদের মাথার ওপরের ঋণের বোঝা কমবে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে কৃষিকাজ করতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনেও আমরা এ ধরনের কাজ চালিয়ে যাব।
তিনি বলেন, আমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করব—সালথা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করুন। নির্বাচনের সময় আমি বিভিন্ন গ্রামে গিয়েছি, আমাদের মা-বোনেরা রাস্তাঘাটের সমস্যার কথা বলেছেন। কোথাও রাস্তা নেই, কোথাও ব্রিজ প্রয়োজন। দয়া করে পরিকল্পনা তৈরি করে আমাকে জানান। আমরা যত দ্রুত সম্ভব অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করতে চাই। এখানে একটি গার্লস স্কুলের প্রয়োজন রয়েছে। একটি মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমরা দ্রুত পরিকল্পনা শুরু করব।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে শামা ওবায়েদ বলেন, সবশেষে আবারও বলছি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজিকে না বলতে হবে। মাদককে না বলতে হবে। সালথা উপজেলার মাটিতে কোনো ধরনের অন্যায় আমি হতে দেব না। কেউ অন্যায় করলে আইন আইনের গতিতে চলবে। কোনো তদবির নিয়ে আমার কাছে আসবেন না। দেশে আইন আছে, আদালত আছে, তারাই বিচার করবে।
দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সহসভাপতি মো. শাহিন মাতুব্বর, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান মোল্যা, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছাদ মাতুব্বর, নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান, বল্লভদী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান শাহিন প্রমুখ।