পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় গেলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মালদা জেলায় জনসভায় এমন ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শনিবার নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বাংলার সামনে একটা বড় সমস্যা অনুপ্রবেশ। আপনারা দেখেছেন, বিশ্বের সব সমৃদ্ধ, উন্নত দেশ- যেখানে অর্থের কোনো খামতি নেই, তারাও অনুপ্রবেশকারীদের উৎখাত করছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও এই অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোটা জরুরি।’
সভায় উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে মোদির প্রশ্ন ছিল, ‘এই অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া উচিত কিনা? এক এক অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত কিনা? কিন্তু তৃণমূল সরকার থাকলে এই অনুপ্রবেশকারীদেরকে ফেরত পাঠানো সম্ভব? তৃণমূলের লোকেরা কি আপনাদের জমি রক্ষা করবে? আপনাদের মা-বোনেদের রক্ষা করবে? কারা এই অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াবে?’ উত্তর আসে বিজেপি।
মোদি বলেন, ‘তৃণমূলের নেতারা, সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে এই অনুপ্রবেশকারীদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করেছে, তাদেরকে ভোটার বানানোর খেলা খেলেছে। অনুপ্রবেশকারীরা গরীব মানুষদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে, মা-বোনদের উপর অত্যাচার করছে। তারা গোটা দেশে আতঙ্ক এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় জনবিন্যাসে তারতম্য ঘটছে। অনেক জায়গায় ভাষা ও কথা বলার মধ্যে পার্থক্য ও বদল এসেছে। অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছরে মালদা, মুর্শিদাবাদসহ পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় দাঙ্গা বেড়েছে। এই অনুপ্রবেশকারী ও ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জোটকে ভাঙতে হবে।’
এরপর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, বিজেপি সরকার গঠন হলে অনুপ্রবেশ ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মতুয়া, নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের লোক- যারা আমাদের শরণার্থী আছেন, যারা প্রতিবেশী দেশে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে, সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে ভারতে চলে এসেছেন- ওদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সংবিধানে এইসব মানুষদের ভারতে থাকার অধিকার দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) মাধ্যমে ওই শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিজেপি সরকার গঠন হলে মতুয়া, নমঃশূদ্র শরণার্থীদের উন্নয়নে গতি আনবে।’