মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেবাননে হামলা আরও জোরদার করেছে ইসরায়েল। দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানের তীব্রতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজধানী বৈরুত ও আশপাশের তুলনামূলক ‘নিরাপদ’ এলাকাতেও নতুন করে হামলা চালানো হচ্ছে। এতে যেমন বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা, তেমনি আরও গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কফার রুম্মান শহরে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স। এ ছাড়া নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, লিতানি নদীর দক্ষিণে জাবাল আমেল অঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামেও একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী; যা ওই অঞ্চলকে দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ মানবিক সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
গত ২ মার্চ থেকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
লেবাননের তথ্যমতে, এসব হামলায় এক হাজার ৪৬০ জনের বেশি নিহত এবং চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
এদিকে রাজধানী বৈরুতেও নতুন করে হামলার মাত্রা বেড়েছে। শহরের দক্ষিণ উপশহরের সাতটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সেখানে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
রাজধানীর পূর্বে আইন সা’দেহ এলাকায় রাতের হামলায় দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকা আগে হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল না এবং সেখানে নিহতরা সবাই বেসামরিক নাগরিক।
এদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতি লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে তারা। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি সেনা সমাবেশেও আঘাত হানার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
এমন পরিস্থিতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সংঘাত নিরসনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘যে ঘরবাড়িগুলো এখনও ধ্বংস হয়নি, সেগুলো রক্ষার জন্য হলেও আমাদের আলোচনা করা উচিত।’
অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইস্টার প্রার্থনায় বিশেষ দোয়া করেছে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়। তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। খবর এএফপি ও আলজাজিরার