জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
গতকাল রোববার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রথম এজেন্ডা ছিল সফল ও ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানান। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ ছাড়া সদ্য পদত্যাগকারী সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে উপদেষ্টারা এবারের নির্বাচন আয়োজনকে ‘মহাসাফল্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রকৃত অর্থে নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতায় নিহত হয়েছেন একজন। হাতিয়ার একটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
উপদেষ্টারা দেশ ছাড়ছেন না, শপথে থাকবেন
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ‘দেশের গর্বিত সন্তান’ অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, তারা দেশে আছেন এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। শপথের দিন তারা পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। শপথ অনুষ্ঠানের পর ফেরার সময় ওই গাড়ি তাদের বাসায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু পতাকা থাকবে না।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শুক্রবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জার্মানির উদ্দেশে রওন হন। এরপর তাঁর দেশছাড়ার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসতে থাকে। পরে ফেসবুকে তিনি দাবি করেন, কর্মস্থল থেকে ‘যথাযথভাবে’ বিদায় নিয়ে তিনি ঢাকা ছেড়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল। আগামীকাল মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক বিদায় হবে।