অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’— এর বিশেষ অভিযানে গাইবান্ধা জেলা সদরসহ দুই উপজেলা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের ৮ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলা শহর, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এর মধ্যে সদর থানা পুলিশ ৩ জন, সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ ৩ জন এবং সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সবাইকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, নাশকতা প্রতিরোধ অভিযানে সর্বানন্দ ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক ও বেলকা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদেরকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে, সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন— সাদুল্লাপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ফজলুল হক রানা, উপজেলা যুবলীগের সদস্য সৈয়দ সবুক্তগিন সবুর এবং সেলিম মিয়া। বুধবার সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর উপজেলার শহরের শহীদ মিনার সংলগ্ন যুবলীগ নেতা রানার বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া, সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ মিয়া। তবে অপর দুইজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বুধবার বিকেলে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা সদর ও দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সবাইকে সদর থানায় রাখা হয়েছে। নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-বি সার্কেল) বিদ্রোহ কুমার কুন্ডু বলেন, দেশব্যাপী ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৮ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।