উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী বলেছেন, ২৪ গণঅভ্যুত্থানের দিন ফরিদগঞ্জ উপজেলাসহ সারা দেশে কেন মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় তথা কমপ্লেক্স ধ্বংস করা হলো। মুক্তিযোদ্ধারা তো কোনো অপরাধ করেনি। কারা এই ধ্বংসের পেছনে জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা আজো পথে পথে হাঁটছি, একটু বসার জায়গা নেই। কমপ্লেক্সগুলোর এমন অবস্থা করেছে যে, বিদ্যুতের তারগুলো পর্যন্ত তারা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই কমপ্লেক্সগুলোর কী হবে, তা নিয়ে আমরা হতাশ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ফলাফল না জেনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বলেই আজ আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তাই আজ বিজয় দিবসের শুভক্ষণে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ওই দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
৫৫তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী আরও বলেন, পতিত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহার করেছিল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। গুটিকয়েক মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া বাকি মুক্তিযোদ্ধারা সবসময়ে অবহেলিত ছিলেন। যে কোটা নিয়ে চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল- সেই কোটা নিয়েও ছিল ছলচাতুরী। আমি আওয়ামীবিরোধী রাজনীতি করতাম বলে আমার মেয়ের সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোটায় চাকরি হয়নি। ফল হিসেবে ফ্যাসিবাদী শক্তি আস্তাকুড়ে নিক্ষেপিত হয়েছে।
এ সময়ে হলে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় ফরিদগঞ্জসহ সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়।