কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন পল্লানকাটা এলাকায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণেশ পাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই কথিত মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৪ ঘণ্টার মাথায় শনিবার (৭ মার্চ) মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শহরের পিএমখালী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে জিদান ও বাদশা নামের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে তারা সরাসরি জড়িত।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রথমে জিদানের কথিত প্রেমিকা এবং পরে তার এক ভগিনীপতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে পিএমখালী এলাকা থেকে জিদান ও বাদশাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
কক্সবাজার সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পেয়ার বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা টানা অভিযান পরিচালনার পরই সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমরা ধারণা করছি। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ২টার দিকে পল্লানকাটা এলাকায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে গণেশ পালের সঙ্গে কয়েকজন যুবকের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে কয়েকজন যুবক গণেশ পালের ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পল্লানকাটা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু দুর্বৃত্ত চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয়। গণেশ পালও চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং এতে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার আরও তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে নিহত গণেশ পালের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং এলাকায় চাঁদাবাজি দমনে অভিযান জোরদার করা হবে।