কক্সবাজারের উপকূলীয় চৌফলদণ্ডীতে প্যারাবনের পাঁচ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে প্রায় ২০ একর জমিতে চিংড়ি ঘের তৈরির ঘটনায় মামলা হয়েছে।
রোববার কক্সবাজার বন আদালতে এ মামলা করেন উপকূলীয় বন বিভাগের পোকখালী বিট কর্মকর্তা মৃণাল চন্দ্র ভাওয়াল। এতে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন– কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ার মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কাশেম, মোহাম্মদ শাহজাহান মেম্বার, মোহাম্মদ আলম, জসিম ওরফে মিয়া ও শামসুল আলম।
এ বিষয়ে ১ জানুয়ারি দৈনিক সমকালে ‘বন কর্মকর্তাদের হাত করে ৫ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে চিংড়ি ঘের’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ নজরে এলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নির্দেশে এ মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) এম এ হাসান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চৌফলদণ্ডীর একাধিক বাসিন্দা জানান, চিংড়ি ঘের তৈরির জন্য গত রোববার থেকে গাছ কেটে সরকারি জমি দখল শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কাশেম ও শাহজাহান মেম্বারের নেতৃত্বে ভূমিদস্যু চক্রটি এই কাজে জড়িত। গাছ কাটার খবর পেয়ে রোববার উপকূলীয় বন বিভাগের পোকখালী বিট কর্মকর্তা মৃণাল চন্দ্র ভাওয়াল পরিদর্শন করেন। পরে ভূমিদস্যু চক্রটি বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তাকে হাত করে ফেলে। ফলে সাত দিনেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নজরে পড়লে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।