March 16, 2026, 5:21 am
Title :
ইরানে হামলাকে সমর্থন জানাল পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘র‌্যাগ ডে’ বন্ধে মাউশির কঠোর নির্দেশনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ঝুপড়িমুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত তেহরান কখনোই যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার জন্য অনুরোধ করেনি: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি শহীদ মিনারে গুলিতে নিহত রাকিব ‘ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট বিডি’র রাকিব নন, জানাল পরিবার তোমরা কি আমার আঙুল গুনতে চাও, প্রশ্ন নেতানিয়াহুর খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করতে আজ দিনাজপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দাঁড়াতে পারেন সাদিক কায়েম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দাঁড়াতে পারেন সাদিক কায়েম

Reporter Name
  • Update Time : Monday, March 16, 2026
  • 28 Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র পদে প্রার্থী করতে চায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী। ইতোমধ্যে তার নামসহ কয়েকজন আলোচিত ছাত্রনেতা ও সাবেক কাউন্সিলরদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোট পাওয়া অথচ পরাজিত প্রার্থীরাও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাদিক কায়েমের তুমুল জনপ্রিয়তাকে চট্টগ্রামে কাজে লাগাতে চায় দলটি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্যও অনেকটা প্রস্তুত তারা। দেওয়া হবে ৪ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীও।

জানা যায়, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েমের পরিবার পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে বসবাস করলেও তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। ৪০ বছর আগে কাপড়ের ব্যবসার সুবাদে তার বাবা খাগড়াছড়িতে স্থায়ী হন। কিন্তু পৈতৃক এলাকা সাতকানিয়ায় তাদের যাতায়াত রয়েছে এখনো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিতি ছাড়াও ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সারা দেশে তিনি আলোচনায় আসেন। ক্যাম্পাসের বাইরেও তার রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা।

জামায়াত সূত্রে জানা যায়, সাদিক কায়েমের ক্লিন ইমেজ ও তারুণ্য নির্ভরতাকে কাজে লাগাতে চায় জামায়াত। বাড়ি চট্টগ্রামে বলে মহানগর জামায়াত প্রস্তাবনায় তার নাম উপরে রেখেছে। এই তালিকা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সংগঠনে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করে নাম ঘোষণা করা হবে। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম স্থানীয় সংগঠন ঘোষণা দেবে। তারা সেই তালিকাও ইতোমধ্যে প্রস্তুত করে রেখেছে। কেন্দ্র থেকে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা হলে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামও পরপর ঘোষণা করা হবে।

সাদিক কায়েমের বিষয়ে দলটির মহানগরের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একজন তুমুল জনপ্রিয় ব্যক্তির নাম প্রস্তাবনায় পাঠানো হয়েছে। তিনি হলেন, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। তবে তাকে প্রার্থী করা হচ্ছে কিনা সেটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩ আসনের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পায় জামায়াত। তাও সাতকানিয়া এলাকাটি জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। নতুন করে বাঁশখালীতে (চট্টগ্রাম-১৪) জয় পেয়েছে জামায়াত। ঢাকায় বেশ কয়েকটি আসনে তারা জয় পেলেও চট্টগ্রামে একেবারে কম আসন পেয়েছে দলটি। বিশেষ করে নগরের চারটি আসনের কোনটিতে জয়ী হতে পারেনি জামায়াতের প্রার্থীরা। দলটির অনেকে এর কারণ হিসেবে সাতকানিয়ার শাহজাহান চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় নেতাদের প্রার্থী না করার ভুলকে দায়ী করেছেন। সেজন্য এবার জনপ্রিয় ও সাবেক ছাত্রনেতাকে প্রার্থী করতে চায় দলটি। কেননা সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তারা চিকিৎসকসহ পেশাজীবীদের বেশি প্রার্থী করেছিল চট্টগ্রামে। এবার নগরকে সাজাতে পারবেন এমন সততা, যোগ্যতা, ব্যক্তিগত ইমেজ, জনপ্রিয়তা, স্থানীয় মতামত ও কর্মী-সমর্থকদের মতামত এবং প্রার্থীর সাংগঠনিক দক্ষতাকে বিবেচনা করেছে দলটির নেতারা। সেসব দিক বিবেচনা করেই মহানগর জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করে পাঠিয়েছে কেন্দ্রে। তার আগে রুকন, মহিলা জা মায়াতের রুকন, শিবিরের সদস্য, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতিদের কাছ থেকে প্রার্থীর বিষয়ে গোপনে ভোট নেওয়া হয়। ওই প্রক্রিয়ায় কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থীর নাম সংগ্রহ করে দলটির মহানগর নেতারা।

জামায়াত সূত্র আরো জানায়, সাদিক কায়েম ছাড়াও আরো কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। কেন্দ্রের কাছে পাঠানো সেই তালিকায় কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, মহানগর জামায়াতের আমির পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম, মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী, জামায়াত নেতা শফিউল আলম, শিবিরের মহানগরীর সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াত নেতা আ ম ম মাসরুর। এর মধ্যে শামসুজ্জামান হেলালী ও শফিউল আলম সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে যথাক্রমে চট্টগ্রাম ১০ ও ১১ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। তবে তারা এর আগে চসিকের কাউন্সিলর ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা চসিক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। জাতীয় নির্বাচনে আমরা চট্টগ্রামে অনেক আসনে বিজয়ী না হলেও আমাদের প্রার্থীরা ব্যাপক ভোট পেয়েছেন যা উল্লেখযোগ্য। সেই নির্বাচনে যেসব ভুল হয়েছে সেগুলো আমরা আমলে নিয়েছি এবার। কয়েকজন সিনিয়র নেতার পাশাপাশি একজন তরুণ জনপ্রিয় নেতার নামও চসিক মেয়র পদে প্রার্থীর তালিকায় আছে। সিদ্ধান্ত এখন কেন্দ্রের।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমাদের তৈরি করা তালিকাটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে শুধু মেয়র প্রার্থীর নাম রয়েছে। তবে সাদিক কায়েমের নাম রয়েছে কিনা এই মুহূর্তে সেটি বলতে পারছি না। কাউন্সিলর পদের প্রার্থী স্থানীয় জামায়াত চূড়ান্ত করেছে। কেন্দ্র শুধু মেয়র পদের প্রার্থীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সেটি হয়ে গেলে মেয়র পদের নাম ঘোষণা করা হবে দ্রুত।

তিনি আরো জানান, এবার চসিকে নারী কাউন্সিলর পদেও আমাদের প্রার্থী থাকবে এবং ৪১টি ওয়ার্ডে প্রার্থী থাকবে। যিনি রাজধানী ঢাকার পর গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরনগরীকে ঢেলে সাজাতে পারবেন, উন্নয়ন করতে পারবেন, দক্ষতা আছে, যোগ্যতা আছে ও মানুষের সেবা করতে পারবেন সে রকম প্রার্থীকে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের কারণে আমাদের প্রস্তুতি ভালো আছে। ঈদের পর নির্বাচন হলে আমরা সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com