বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চায়। তাই বুকে কষ্ট নিয়ে হলেও তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন।’
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ প্রশাসন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারের ভালো কাজে পূর্ণ সমর্থন থাকবে। তবে কোনো অন্যায়, অপরাধ কিংবা দুর্নীতি হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হবে, প্রয়োজন হলে রুখে দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। সরকার যদি দুর্নীতি ও অন্যায় বন্ধ করতে পারে, তাহলে ৫ বছরের মধ্যেই দেশ পরিপূর্ণভাবে বদলে যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, সরকার যদি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়, তাহলে এর ক্ষতি ভোগ করবে দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকারি দলের দায়িত্ব হচ্ছে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করার সুবিধা তৈরি করে দেওয়া। তারা যতটা সুবিধা তৈরি করে দেবেন দেশ ততটাই লাভবান হবে। সংসদের ভিতরে কিংবা বাইরে সংঘাতের মধ্যে দেশের কোন উপকার হবে না। বরঞ্চ যদি সত্যিকার অর্থে জনগণকে ধারণ করে সমন্বয় করে রাজনীতি করতে পারি সেটাই জনগণকে উপহার দেবে।
জামায়াত আমীর বলেন, গণতান্ত্রিক বিশ্বে এটি হচ্ছে এসেন্স অফ ডেমোক্রেসি। এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু আমরা শিখে এসেছি, বিরোধী দল মানে সবকিছুতে বিরোধিতা। আর সরকারি দল মানে সবকিছুতে দমন। ওই দুইটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দমনও চলবে না। আর অন্ধ বিরোধিতাও চলবে না। এই দুইটার সমন্বয় চাই আমরা দেখতে।
সিলেটে ইতিবাচক ও সমন্বয়ের রাজনীতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বলেন, ‘আমি সংসদে গেলে বা সিলেটে এলে আমার পরিচয় একটাই, আমি আপনাদের মানুষ। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হওয়ায় কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, তিনি যেন প্রশাসক নয়, কাইয়ুম চৌধুরী থাকেন। প্রশাসনের ভাব নিয়ে নয়; জনগণের ভাষা বুঝে জনগণের ভাষায় কথা বলবেন- এটাই প্রত্যাশা।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশিত ফল না এলেও এবার তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি- এটাই ইতিবাচক রাজনীতির দৃষ্টান্ত।’ একই সঙ্গে তিনি সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানান, বিরোধী দলের গঠনমূলক রাজনীতির সুযোগ নিশ্চিত করতে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলবেন। আমার বিরুদ্ধেও কিছু পেলে বলবেন।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সংবাদে টুইস্ট এলে সমাজ বিভ্রান্ত হয়। মিডিয়ার ভূমিকা হতে হবে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ। সরকারের ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি অকারণ প্রশংসাও ক্ষতিকর। নিউজ আর ভিউজ আলাদা। নিউজে যা আছে তাই দিন; ভিউজ সমাজ নেবে কি নেবে না, সেটা সমাজের সিদ্ধান্ত, যোগ করেন।’
সিলেটের ঐতিহ্যগত সামাজিক সৌহার্দ্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অতীতে হারমনি বজায় ছিল; ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা সম্ভব।