আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাসনিম জারা। সোমবার বিকেলে রাজধানীর সবুজবাগ থানা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন তাসনিম জারা। পোস্টে তিনি বলেন, ‘৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে আজ সোমবার আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। এই নির্বাচন করা আমার জন্য নয়, তোমাদের সবার জন্য।’
জারা লেখেন, ‘স্বাক্ষর করতে এই প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে কেউ এসেছে। কেউ ভোরে, গভীর রাতে, কর্মদিবসে স্বাক্ষর করতে আসেন। কেউ বাবা-মা, ভাই-বোন, কাজিন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে এসেছে। কেউ নিজে স্বাক্ষর করেছে, অন্যদের স্বাক্ষর করতে বলেছে।’
এনসিপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, ‘কলেজের ছেলেমেয়েরা হঠাৎ স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে। শেষ এক ঘণ্টায় তারা ৫০টি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। মামা আমাদের গল্প শুনে আরও ১০টি সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। দেখি কিছু করতে পারি কি না।’
কীভাবে এসব স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে জারা বলেন, ‘মা-মেয়ে একসঙ্গে ঘুরে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। তারা ফরম নিয়ে মহল্লা ঘুরে ঘুরে স্বাক্ষর করেছে। পুরনো বন্ধু, সহকর্মীরাও কাজে যোগ দেয়। আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব কিনা, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু কখনো হাল ছাড়বো না।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণার পর দলের যুগ্ম সদস্যসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা। ঢাকা–৯ আসনে এনসিপি থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া চিকিৎসক তাসনিম জারা পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দেন। এর জন্য তাঁর প্রয়োজন হয় নির্বাচনী আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর। সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর। দুই দিনে এই স্বাক্ষর সংগ্রহ করে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন করোনাকালে অনলাইনে চিকিৎসাবিষয়ক নানা পরামর্শ দিয়ে পরিচিত হয়ে ওঠা তাসনিম জারা।
তিনি বলেন, এক দাদু সন্ধ্যায় আশীর্বাদ ও দোয়া করতে এসেছিলেন, ২০টি স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। পরদিন সকালে ফর্মগুলো স্বাক্ষর করে ফেরত দেন। আমাকে তিনি বলেন, ‘দেখো মা, আমি আমার কথা রেখেছি।’
তিনি আমার কানে ফিসফিস করে বলেন, ‘কখনো পিছু হটবে না। আমরা আছি। আমিও পারছি না।’