মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্য খালাস দিয়ে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগে কাস্টম হাউসের সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে কমিশন অভিযোগপত্রের অনুমোদন দিয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম শিগগির আদালতে অভিযোগপত্রটি পেশ করবেন।
সোমবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।
অন্য আসামিরা হলেন– সাদমান এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল হাসনাত সোহাগ ও কাস্টম হাউসের সাবেক এপ্রেইজার (আমদানি) মুজিবুর রহমান। প্রয়াত মোহাম্মদ হারুন শাহের মালিকানাধীন কোম্পানি এম আর করপোরেশনও ওই অনিয়ম, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
দুদক জানায়, আসামি আবুল হাসনাত সোহাগের কোম্পানি সাদমান এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে বিভিন্ন ধরনের ঘড়ি, টিভি, ডিভিডি, ক্যালকুলেটর, কসমেটিক এবং এক্সেসরিজ আমদানির জন্য সাউথইস্ট ব্যাংকের ঢাকার বংশাল শাখায় এলসি খোলে। পরে পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছলে খালাসের জন্য তিনি মোহাম্মদ হারুন শাহের এম আর করপোরেশনকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেন। শুল্ক-কর বাবদ দুই লাখ টাকা জমা দিয়ে মালপত্র খালাস করে সোহাগকে বুঝিয়ে দেন। গোপন সংবাদের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ায় চালানটির আইজিএম অনলাইন ব্লক করা হয়। ব্লক থাকা অবস্থায় তারা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণায় চালানটি খালাস নিয়েছেন।
আসামি হুমায়ুন কবির ও মুজিবুর রহমান জেনেশুনে চালানটি ব্লক থাকা অবস্থায় মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্য চালানটি যাচাই না করে কম শুল্কায়ন করে পণ্য খালাস দিয়েছেন। চালানটির বিপরীতে আমদানিকৃত পণ্যের বিপরীতে শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য এবং এর ওপর প্রযোজ্য শুল্ক করহার ছাড়াও পণ্যটি বাধ্যতামূলক পিএসআই কার্যক্রমের আওতাভুক্ত। আমদানিকারক তার মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট পরস্পর যোগসাজশে অসত্য ঘোষণায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস নিয়েছেন।
চালানটি খালাসোত্তর যথাযথ এইচএস কোড ও প্রযোজ্য শুল্ক-কর হারে পুনঃশুল্কায়ন করা হয়। চালানটির প্রদেয় শুল্ক-করের প্রকৃত পরিমাণ ৯৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা।