এবারের (২০২৫) মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় মেক্সিকান সুন্দরী ফাতিমা বশ মুকুট জিতেছেন, তবে প্রতিযোগিতার শুরুতেই তিনি একজন আয়োজক কর্মকর্তার কাছ থেকে জনসমক্ষে তিরস্কারের শিকার হয়েছিলেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, এর কয়েকদিন পরই তিনি বিজয়ীর মুকুট পরেন এবং এটি মেক্সিকোর চতুর্থ মিস ইউনিভার্স জয় ছিল।
ছোটবেলা থেকেই ডিসলেক্সিয়া (পড়া ও লেখায় অসুবিধা, উচ্চারণে সমস্যা ইত্যাদি) ও এডিএইচডিতে ভুগেছেন ফাতিমা। তাই স্কুল-কলেজে বুলিংয়ের শিকারও হয়েছেন। তবে পরবর্তী সময়ে এই অক্ষমতাকেই নিজের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে এসে আলোচনা তার পিছু ছাড়েনি। মূল প্রতিযোগিতায় এসেও অপমানের শিকার হতে হয়েছে তাকে। থাইল্যান্ডে মূল পর্ব শুরুর আগে সবাইকে নিয়ে প্রি-প্যাজেন্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ।
নিয়ম অনুযায়ী যে দেশে মিস ইউনিভার্স অনুষ্ঠিত হয়, সেই দেশের একটি প্রমোশনাল ভিডিও করতে হয় প্রতিযোগীদের। আনুষ্ঠানিক ফটোশুটের বাইরেও কিছু ছবি তোলা হয়। কিন্তু মিস ইউনিভার্স মেক্সিকো তা সময়মতো সামাজিক মাধ্যমে দিতে পারেননি। যে কারণে মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের পরিচালক নাওয়াত ইতসারাগ্রিসিল তাকে সবার সামনে ‘ডাম্ব’ (বোকা) বলেন
সঙ্গে সঙ্গে তার জবাব দেন মিস মেক্সিকো ফাতিম বশ। সরাসরি বলেন, ‘আপনি আমাকে একজন নারী হিসেবে যথাযথ সম্মান দিচ্ছেন না।’ এরপরও নিরাপত্তা বাহিনীকে ডেকে তাকে শাসানোর চেষ্টা করেন সঞ্চালক। কিন্তু ততক্ষণে মিস ইউনিভার্স মেক্সিকোর পক্ষ নিয়ে নেন বাকি প্রতিযোগীরা। একযোগে আসন থেকে উঠে হল ত্যাগ করেন সবাই। মিস ইউনিভার্সের সেই ইভেন্ট সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল ফেসবুকে। সেখানে সবাই সরাসরি দেখতে পায় ঘটনাটি
ঘটনার পর মিস ইউনিভার্স মেক্সিকো এক সাক্ষাৎকারে জানান, একুশ শতকে এসে একজন নারী কখনোই হাতের পুতুল হয়ে থাকতে পারে না। যা ইচ্ছা তা–ই বলতে পারেন না কিংবা সাজাতে পারেন না। আমি এখানে এসেছি সব নারীর প্রতিনিধিত্ব করতে। আমাকে অসম্মান করা মানে পুরো নারী জাতিকে অসম্মান করা।’
ঘটনার পর তিনটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে ক্ষমা চেয়েছেন সঞ্চালক। কিন্তু তাতে মন গলেনি মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের। এ বছরই পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া নাওয়াতকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ।