যুদ্ধ কতক্ষণ চলবে তা জানিয়েছেন ইরানের এক কমান্ডার। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আবদোলরহিম আব্দোল্লাহি বলেন, শত্রুকে পরাজিত ও অনুতপ্ত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ইরান।
রোববার (৮ মার্চ) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আবদোলরহিম আব্দোল্লাহি বলেন, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে এবং বর্তমানে দেশটির অস্ত্র আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত, নির্ভুল ও শক্তিশালী। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর এবং এটি যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা বারবার দাবি করেছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের আকার সম্পর্কে তারা অবগত। আমরা তাদের বলি—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা যুদ্ধক্ষেত্রে গুনে দেখুন।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস)-এর সদস্য আহমাদ আলামুলহোদা বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আহমাদ আলামুলহোদা জানান, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিষয়টি এখন নির্ভর করছে বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রধান হোসেইনি বুশেহরির ওপর। তিনিই শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে ঘোষণা করবেন।
এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর দেশটিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞ পরিষদের ওপর ন্যস্ত।
গত ১ মার্চ ইরানের কিছু সংবাদমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দুটি মার্কিন সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার সময় আয়াতুল্লাহ খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ওই হামলায় খামেনি ও তার কয়েকজন শীর্ষ সহযোগী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি শামখানি এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর।
ইরানি একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার ঠিক আগে আলি শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি।
সুত্র: রয়টার্স