রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যদি ইউরোপ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে মস্কো পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধ এত দ্রুত এবং একতরফাভাবে শেষ হবে যে এরপর শান্তি আলোচনার জন্য ইউরোপে “কেউ থাকবে না”।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ২ ডিসেম্বর ইউরোপীয় শক্তিগুলোর উদ্দেশে এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন পুতিন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত—ইউক্রেন যুদ্ধ। এই চলমান যুদ্ধ চার বছর পার হলেও রাশিয়া এখনও ইউক্রেনকে পুরোপুরি পরাজিত করতে পারেনি। ছোট প্রতিবেশী রাষ্ট্র হলেও এ যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা এবং ইউরোপীয় শক্তিগুলো।
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতারা বহুবার সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনে বিজয়ী হলে পুতিন ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ওপর আগ্রাসন চালাতে পারেন। তবে পুতিন ধারাবাহিকভাবে এ অভিযোগ অর্থহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তোর বক্তব্য, ‘ইউরোপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে’ এ সম্পর্কে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, রাশিয়া যুদ্ধ শুরু করতে চায় না। যদি ইউরোপ হঠাৎ করে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করতে চায় এবং তা শুরু করে, তাহলে ইউরোপের জন্য এটি এত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে যে আলোচনার মতো কেউ থাকবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়। রাশিয়া সেখানে “শল্যচিকিৎসার মতো” সীমিত আকারে অভিযান চালাচ্ছে। তবে সরাসরি ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গে সংঘাতে গেলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, যদি ইউরোপ আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় এবং শুরু করে, আমরা এখনই প্রস্তুত।
ক্রেমলিন অভিযোগ তুলেছে, ইউরোপীয় শক্তিগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। তাদের প্রস্তাবগুলো এমনভাবে সাজানো যে মস্কো সেগুলো কখনোই গ্রহণযোগ্য মনে করবে না। আর এভাবেই ইউরোপ রাশিয়ার ওপর শান্তিচুক্তি না চাওয়ার অভিযোগ চাপিয়ে দিতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুতিন বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেদেরই শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, তারা যুদ্ধের পক্ষেই রয়েছে।
এ ছাড়া কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার তথাকথিত “ছায়া নৌবহর”–এর ট্যাঙ্কারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে ইউক্রেনের সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।