কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সখ্যতা এবং বিতর্কিত মেলামেশার অভিযোগে অবশেষে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। সম্প্রতি ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর নতুন নথি ও ছবি জনসমক্ষে আসার পর তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের মুখে তিনি গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফাউন্ডেশনের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিল গেটস স্বীকার করেন যে এপস্টেইন ফাইলের নথিতে উল্লিখিত দুই রুশ নারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তবে তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন, ওই নারীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পেছনে এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের কোনো যোগসূত্র নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের একাধিক বৈঠক এবং অজ্ঞাতপরিচয় নারীদের সঙ্গে তাঁর ছবি প্রকাশের পর এই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তাঁর সঙ্গে বৈঠকে যুক্ত করাকে একটি ‘বিরাট ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এই ধনকুবের। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের ভুলের জন্য তিনি অত্যন্ত লজ্জিত এবং তাঁর কারণে যাঁরা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, তাঁদের সবার কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
তবে যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে তিনি জানান, তিনি নিজে বেআইনি কিছু করেননি এবং তাঁর চোখের সামনেও তেমন কিছু ঘটেনি। এপস্টেইনের আশপাশে থাকা কোনো ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এই বিতর্কের প্রভাব পড়েছে গেটসের আন্তর্জাতিক সূচিতেও। চলতি মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ থেকে তিনি নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। গুগল ও ওপেনএআই-এর প্রধানদের সঙ্গে এই সম্মেলনে তাঁর মূল ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও, বিতর্ক যেন মূল আয়োজনের গুরুত্ব কমিয়ে না দেয়, সেই বিবেচনা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে গেটস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ফাউন্ডেশনটি আগে থেকেই দাবি করে আসছে যে তারা কখনোই জেফরি এপস্টেইনকে কোনো অর্থ প্রদান বা নিয়োগ দেয়নি।