ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্য রাজধানী তেহরানে বৃহৎ জনসমাগমে বিদায় ও জানাজার আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (০৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট কো অর্ডিনেশন কাউন্সিল জানায়, শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনদিনব্যাপী গণবিদায় অনুষ্ঠান রাজধানী গ্রান্ড মসাল্লা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে টানা তিন দিন চলার কথা ছিল, যাতে সাধারণ মানুষ ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
তবে আয়োজকরা পরে জানান, নজিরবিহীন সংখ্যক শোকাহত মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনার কারণে অনুষ্ঠানটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তারিখ ও সময় শিগগিরই জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে চূড়ান্ত জানাজা অনুষ্ঠান পর্যন্ত তেহরানের বিভিন্ন মসজিদ ও চত্বরে মাগরিবের নামাজের পর শোকসভা অব্যাহত থাকবে।
বিবৃতিতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ইরানি সমাজের সব স্তরের মানুষ—নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ, শিক্ষাবিদ, আলেম, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কাউন্সিল জানায়, ব্যাপক জনসমাগম জাতীয় ঐক্য, ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের প্রতি আনুগত্য এবং বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের বার্তা বহন করবে।
বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ‘খাঁটি মুহাম্মদি ইসলামের’ শক্তিশালীকরণ, ইরানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা এবং প্রতিরোধ অক্ষকে সুসংহত করতে জীবন উৎসর্গকারী মহান নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
গ্র্যান্ড মুসাল্লা তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও জাতীয় ভেন্যু, যেখানে অতীতে বহু ঐতিহাসিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনদিনের শোকানুষ্ঠান উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
কাউন্সিল আরও জানায়, জানাজার শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য—স্ত্রী, কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ ও দুই নাতিসহ—নিহত হন বলে জানানো হয়। রোববার ভোরে তার শাহাদাতের ঘোষণা দেওয়া হয়।