বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরাতে বহুমুখী সংস্কার ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৯.১৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে, যা বর্তমানে ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থা বাতিল এবং বাজার নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষিখাতকে চাঙ্গা করতে ১৯ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করা হয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
জ্বালানি খাতে সংকট দূর করতে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় আকারের কূপ খনন ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ধনী করদাতাদের ওপর তদারকি বাড়ানো হয়েছে। সুনীল অর্থনীতির বিকাশে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনসহ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বড় অংকের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কারকে আরও গতিশীল করবে।