রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে জনস্বার্থের পাশাপাশি অর্থ, পেশিশক্তি এবং ধর্মের অপব্যবহার বিষয়ে দলগুলোর অবস্থান জনগণের কাছে পরিষ্কার করে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার পরিচালনায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ইশতেহারে উল্লেখ করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল রোববার সংস্থাটির রাজধানীর ধানমন্ডি কার্যালয়ে ‘সুশাসিত, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার প্রণয়নে টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন।
রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোকে অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সংস্থাটি ইশতেহার প্রণয়নের সময় জবাবদিহি বাস্তবায়নে ৫২ বিষয়ে অঙ্গীকার করতে সুপারিশ করেছে। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর প্রস্তাবের পাশাপাশি বাইরে থাকা স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম, নারী, স্বাস্থ্য ও শ্রমবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে রাখা উচিত এমন ৫২টি প্রস্তাব সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে টিআইবি। এর মধ্যে প্রথম সাতটি প্রস্তাব পড়ে শোনান ইফতেখারুজ্জামান। এগুলোর মধ্যে আছে জুলাই জাতীয় সনদ ও এর বাইরে থাকা সংস্কার কমিশনগুলোর বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা; জুলাই সনদসহ অন্য সংস্কার কমিশনের ওপর ভিত্তি করে যেসব অধ্যাদেশ জারি ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো কার্যকর ও অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলের সব হত্যা, অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অব্যাহত রাখা।
বাকিগুলো পড়ে শোনান মো. জুলকারনাইন ও মোহাম্মদ বদিউজ্জামান। এসব প্রস্তাবে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ, দলের কার্যক্রমে গণতন্ত্র, সুশাসন ও শুদ্ধাচারের চর্চা, সম–অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যাংক–আর্থিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও পরিবেশ–জলবায়ু খাতে সংস্কার, বেসরকারি খাতে সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।