অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা আদায় করেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
অভিযোগের তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন খাত থেকে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন এই সাবেক কর্মকর্তা। দুবাই ও সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল এবং হুন্ডির মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে এই অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হয় বলে অভিযোগের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের আর্থিক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় সচেতন মহলে গভীর প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এত বড় অংকের অর্থ দেশের সীমান্ত পেরিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এর পেছনে প্রকৃত হোতাদের খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দৃষ্টি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই বিশাল সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে। দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষায় এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।