March 27, 2026, 3:02 am
Title :
চিতলমারীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ সুনামগঞ্জে স্মৃতিসৌধে মিছিল-স্লোগান, আওয়ামীপন্থী ২ আইনজীবী গ্রেপ্তার সংঘাত নয়, সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে : গোলাম পরওয়ার খেলাফত মজলিস নেতার পরিবারের ৫ জন নিহত, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল আবরার আলোচনায় না এলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে ইরান : ট্রাম্প দ্রুত ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প ক্রীড়াঙ্গনকে পেশাদার রূপ দিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনে কাজ করেছি: আদালতে মামুন খালেদের দাবি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ নিয়ে জামায়াত এমপির আপত্তি, শোনেননি ইউএনও চুক্তির জন্য মিনতি করছে ইরান, বললেন ট্রাম্প

ইউনূস আমলে মুক্তিযোদ্ধা পীড়নের দেড় বছর এত অপমানিত আগে হননি মুক্তিযোদ্ধারা

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, March 26, 2026
  • 4 Time View

‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে/বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা…’ গানটা বেজে উঠলেই বাঙালির দেহমনে অদ্ভুত এক শিহরণ জাগে। প্রাণের গহিন থেকে বেজে ওঠে গানের পরের কলিটা- ‘আমরা তোমাদের ভুলব না…।’

বাংলাদেশি বাঙালির এই শ্রদ্ধাবনত আবেগ আরেকবার সজোরে ধাক্কা খেল ৫৩ বছর পরে এসে। স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি বহু বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন শুরু করে, তবে একই সঙ্গে দমন-পীড়ন চালাতে থাকে বিরোধীদের ওপর।

এই কাজে ছলে-বলে-কৌশলে পাওয়া একের পর এক আপাত সাফল্য দিন দিন তাদের কর্তৃত্ববাদী করে তোলে। অন্ধ অহংকারে একসময় দিক হারাতে শুরু করে নেতৃত্ব। ক্ষমতা ধরে রাখতে লুটেরাসহ অপশক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে মহাবিপর্যয়ে ফেলে দেয় দেশবাসীকে। পরিণতিতে ডেকে আনে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন।

নিজেরাও অধঃপতিত হয়, মুক্তিযোদ্ধাদেরও ফেলে দেয় চরম দুর্দিনে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলে আসেন, ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থান একদিনে হয়নি, এর নেপথ্যে ছিল এক মেটিকুলাস ডিজাইন। এবং সেখানে উপস্থিত তাঁর বিশেষ সহকারী ছাত্রনেতা মাহফুজ আলমকে ওই ডিজাইনের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

পরের মাসেই ৩ অক্টোবর ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস ‘রিসেট বাটন চাপা’র কথা উল্লেখ করে বোঝান, দেশের অতীত সব মুছে গেছে।

এসব বক্তব্যে, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ইঙ্গিতে প্রবল সমালোচনা শুরু হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জাতিকে হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার বুঝ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জাতি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৪ ডিসেম্বর কুমিল্লায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ন্যক্কারজনকভাবে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে যায়। এর পর থেকে ইউনূস আমলের দেড় বছরে একের পর এক মুক্তিযোদ্ধা হত্যা-নির্যাতন-অপমানের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙাসহ সব চিহ্ন মুছে ফেলা; বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ভবন প্রশাসনের সহায়তায় গুঁড়িয়ে দেওয়া, গাজীপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ভাস্কর্য ভাঙচুর, মেহেরপুরে মুজিবনগরের প্রায় ৩০০ ভাস্কর্য এক দিনে ভাঙচুরের ঘটনায় দেশপ্রেমী মানুষ হতবাক হয়ে যায়।

সাধারণ জনগণ যারা বিপুল আশা-উৎসাহ নিয়ে জুলাই গণ-আন্দোলনে রাস্তায় নেমে আসে, তারাও স্তম্ভিত হয়ে যায়। কারো বুঝতে আর বাকি থাকে না—মব সংস্কৃতির নামে দেশে শুরু হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলার মিশন।
এসব ঘটনায় গণ-অভ্যুত্থানের সরকারের নির্লিপ্ততা তাদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। একসময় জনগণের চাপে দ্রুত ভোট আয়োজন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে বিদায় নেয় তারা। দেশবাসী যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। মানুষের মনের ঘরে আবার বেজে ওঠে ‘বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা/আমরা তোমাদের ভুলব না…।’

আমরা ভুলিনি। ওই দেড় বছরে দেশের আনাচে-কানাচে যতজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের নিয়ে অনুসন্ধানে নামে কালের কণ্ঠ। বেরিয়ে আসে গা শিউরে ওঠা সব ঘটনা। বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের দল আওয়ামী লীগের মাঠের নেতৃত্ব বেপরোয়া হয়ে ওঠার পর ২০১৪ সাল থেকে পরের ১০ বছরে বেশ কজন মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতিত, এমনকি খুন হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে সেসব ঘটনার ধরন-কারণ-বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে গুণগত পার্থক্য আছে ইউনূস আমলের নিপীড়নের। আগের ঘটনাগুলো নির্বাচন কিংবা যাপিত জীবনের নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে যে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ করার কারণেই নিপীড়ন, তা স্পষ্ট। মুক্তিযোদ্ধারাই বলছেন, তাঁদের যেন স্বীকার করানোর চেষ্টা হয়েছে—মুক্তিযুদ্ধ করে, দেশের স্বাধীনতা এনে তাঁরা অপরাধ করেছেন। তবে জন্মবীরেরা সেটা মানেননি। অপশক্তির হিংস্রতার মুখে দাঁড়িয়েও প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। বরাবরের মতো এবারও গর্জে উঠেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, ফজলুর রহমান, জেড আই খান পান্নাদের মতো সূর্যসন্তানরা।

তথ্য-উপাত্ত বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত—এই ১০ বছরে দেশে বিচ্ছিন্নভাবে কমবেশি ৩৫টি ঘটনা ঘটে, যাতে ৯ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত, ৫৯ জন আহত হন।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরেই বেছে বেছে মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতনের ঘটনা ঘটে মোট ২৫টি। এসব ঘটনায় দুজন মুক্তিযোদ্ধা নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সস্ত্রীক গলা কেটে হত্যা, আরেকজনকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা দেশবাসীকে স্তম্ভিত করে দেয়। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আবার কোথাও হামলা হয়েছে জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণ দেখিয়ে। অনুসন্ধান বলছে, আগে থেকেই এসব বিরোধ থাকলেও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বেছে বেছে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।

প্রিয় পাঠক, চলুন, অনুসন্ধানের সঙ্গে—

তারাগঞ্জে সস্ত্রীক মুক্তিযোদ্ধা খুন রহস্যঘেরা : ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাঁদের বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় র‌্যাবে ও ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় পুলিশে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়িতে তাঁদের মা-বাবা দুজনই থাকতেন। খুনের ঘটনায় বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এক পর্যায়ে বলেন, ‘হত্যা বন্ধে কোনো ম্যাজিক বা সুইচ অন-অফের মতো কিছু নেই।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আফজালুল হক তখন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, গ্রামে এ রকম ভালো পরিবার আর একটিও নেই। মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র ছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারাগঞ্জ থানার এসআই মো. আবু ছাইয়ুম তালুকদার বলেন, তদন্ত চলমান থাকায় এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

এই হত্যার ঘটনায় জোগেশ চন্দ্রের বাড়িতে কাজ করা এক টাইলস মিস্ত্রি তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি এলাকার জনমনে প্রশ্ন তোলে। তারা মনে করছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আইন-শৃঙ্খলার অবনীতি ঘটাতেই পরিকল্পিতভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সস্ত্রীক হত্যা করেছে।

এ প্রসঙ্গ তুলে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু ছাইয়ুম তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সবগুলো বিষয়ই আমাদের বিবেচনায় আছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।’

জুতার মালা পরিয়ে নজিরবিহীন অপমান : অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো। ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুকে এমন নজিরবিহীন অপমান করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই মুক্তিযোদ্ধাকে আক্রমণের চক্রান্ত ছিল আরো আগের। তাঁর বাড়িতে প্রথম হামলা করা হয় ওই বছরের ১৯ আগস্ট। এরপর ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় বাড়িতে হামলা করা হয়। এরপর ২২ ডিসেম্বর মারধর করে তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কিন্তু পরিবারটির ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন চলতেই থাকে।

চরম অপমানের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এজাহারভুক্ত আসামি ইসমাইল হোসেন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হলেও ঘটনার মাত্র আট দিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি। বাকি চারজন জামিন পান আগেই।

ঘটনার পর স্থানীয় জামায়াতের দুই নেতা আবুল হাশেম ও অহিদুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ওই ঘটনার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা কানু আজও এলাকাছাড়া। এখনো আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরীরে আঘাতের ক্ষত এখনো বহন করছেন ওই মুক্তিযোদ্ধা। মানসিক ট্রমা থেকেও বের হতে পারেননি তিনি। গত ১১ মার্চ মাইনর স্ট্রোক হয়েছে তাঁর। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে মুক্তিযোদ্ধা কানুর ছেলে গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বিপ্লব আক্ষেপের সুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করা এবং স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার থাকাই যেন আমার বাবার অপরাধ ছিল! কখনো বাবা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে আপস করেননি। এটিই যেন তাঁর অপরাধ! এ জন্য তাঁকে সর্বনিকৃষ্ট অসম্মান করা হয়েছে। পুরো পৃথিবী লিখে দিলেও আমরা বাবার সেই অসম্মান ভুলে যেতে পারি না। কোনো সন্তানের পক্ষেই তা সম্ভব না। ওই ঘটনার পর থেকে আমাদের পুরো পরিবার মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। আমরা এখনো সেই ট্রমা থেকে মুক্ত হতে পারিনি।’

বিপ্লব জানান, ওই ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। তখন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আসে ওই আসামি। অন্য আসামিরাও প্রথম শুনানিতেই জামিন পেয়ে যায়। এখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত চাপ দিয়ে যাচ্ছে ওরা। বাবা মামলা তুলতে রাজি না হলে চাপ আসে ছেলের ওপর। কিন্তু অনড় থাকায় তাঁকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার একটি হত্যা মামলায় কৌশলে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। বিপ্লব আরো বলেন, ‘আমরা এলাকায় যেতে পারি না। যে মানুষটি জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে মুক্ত করতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, আজ সেই মানুষটি পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কিছুই নেই। এই বাংলাদেশের জন্য আমার আব্বারা দেশ স্বাধীন করেননি।’

আসামিদের ভাষ্য : মুক্তিযোদ্ধা কানুর ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার এক নম্বর আসামি আবুল হাশেম দাবি করেন, ঘটনাটি ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে এবং এটি একটি স্থানীয় বিরোধের জের। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুতার মালা পরানোর ঘটনা কয়েকজন ছেলেপেলের কাজ এবং তিনি নিজে মারধর ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন।

তবে কানুকে এলাকাছাড়া করার কথা স্বীকার করেছেন আবুল হাশেম। তিনি বলেন, ‘আমরা সেদিন তাঁকে প্রাইমারি স্কুলের সামনে বসিয়ে রেখে থানায় খবর দিই। কারণ তাঁর নামে হত্যাসহ অনেক মামলা রয়েছে। এ সময় আগের একটি ঘটনার প্রতিশোধ নিতে কানুর বাড়ি থেকে কয়েকজন বাচ্চা পোলাপান জুতার মালা বানিয়ে কানুর গলায় পরিয়ে দেয়। তখন আমি বলেছি, উনি বয়স্ক মানুষ, তাঁকে মারধর করা যাবে না। উনি যেহেতু এলাকায় বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িত, তাই উনি এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন, এটাই সিদ্ধান্ত।’ আরেক আসামি মো. রাসেল বলেন, মামলাটি এখনো বিচারাধীন, তবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। অন্য দুই আসামিকে গত সোমবার বিকেলে বারবার ফোন করলেও তাঁরা রিসিভ করেননি।

হাশেমের দাবি মিথ্যা : আবুল হাশেম মুক্তিযোদ্ধা কানুকে হামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন—এই দাবির পর আমরা সেদিনের ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, কানুকে যে দুজন ব্যক্তি কলার ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেখানকার একজন (কালো কোট গায়ে) আবুল হাশেম। তাঁর নেতৃত্বেই ওই মবের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়।

দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে হামলা, পরে মৃত্যু : ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই দিনাজপুরের খানসামায় মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন সরকার ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। মূলত দলীয় কোন্দলের শিকার হন তিনি। প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে তিনি মারা যান।

হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা দুই সপ্তাহ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ৩ আগস্ট বাড়ি ফিরলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। ৬ আগস্ট নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

জানা গেছে, শরীফ উদ্দিন সরকার উপজেলা বিএনপির সদস্য, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক এবং আংগারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

বঙ্গবীরের বাড়িতে হামলা : ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি মুখোশধারী দল তাঁর বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং মই দিয়ে গেট টপকে ভেতরে ঢুকে দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলার সময় কাদের সিদ্দিকী সেই বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন।

হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনের মুখ বাঁধা ছিল এবং কয়েকজন হেলমেট পরা ছিল বলে জানা গেছে।

এলাকাছাড়া শরীয়তপুরের মুক্তিযোদ্ধা : শরীয়তপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর পর থেকে একজন কার্যত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ৩১ মার্চের। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ সিকদার এবং তাঁর তিন ছেলে নিজেদের জমি মাপজোখ করতে গেলে প্রতিবেশী জব্বার শিকদার বাধা দেন। এ বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরদিন সকালে জব্বারের লোকজন মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর তিন সন্তানের ওপর হামলা করে। ওই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা রশিদ গুরুতর আহত হন। অনেক চেষ্টা করেও অভিযোগের বিষয়ে জব্বার শিকদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চাঁদা না দেওয়ায় হামলা : ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার রূপসী বাগবাড়ী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম শামসুল আলমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। চাঁদা চেয়ে না পেয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী বিল্লাল হোসেন ও তাঁর বাহিনী এ হামলা চালায়। এতে শামসুল আলম ও তাঁর পরিবারের আরো তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

‘মুক্তিযুদ্ধ করে যেন বিশাল অপরাধ করে ফেলেছি’—এমন আক্ষেপ জানিয়ে শামসুল আলম বলেন, ‘আপস না করে কিছু করার নেই। আমরা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। এখন এর কোনো দাম নেই। দেশে এখন সন্ত্রাসীদের দাম বেশি।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুকনুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে ঘটনাটি মীমাংসা হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বক্তব্য দিতে গিয়ে অপদস্থ : ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে অপদস্থ হন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাবেক সহকারী কমান্ডার মো. তরিকুল আলম। ওই দিন এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টকে না মেলানোর আহবান জানালে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমান উত্তেজিত হয়ে আঙুল উঁচিয়ে তরিকুল আলমের দিকে তেড়ে যান। চিৎকার করে মুক্তিযোদ্ধা তরিকুলকে তিনি বক্তব্য থামাতে বলেন। এ সময় লতিফুরের অন্য সহযোগীরাও চেঁচামেচি শুরু করেন। একজন আবার তরিকুলকে মাইক্রোফোন দিয়ে নেমে যেতে আদেশ করেন।

স্লোগান দিয়ে প্রহূত : ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বেদম প্রহারের শিকার হন সিরাজগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান। শুধু তাই নয়, প্রহারের পর তাঁকে পল্টন থানা পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী হামলাকারীদের ধরার বদলে মুক্তিযোদ্ধাকেই একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। পরদিন আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইউনূস আমলের আরো ঘটনা : বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আমলে মুক্তিযোদ্ধা পীড়নের আরো কয়েকটি ঘটনার সন্ধান পাওয়া যায়। যেমন—২০২৪ সালের ৬ আগস্ট যশোরে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক মোল্লার কাছে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

একই বছর ৮ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুর রশিদ মিয়া প্রকাশ্যে লাঞ্ছনার শিকার হন। সকাল ১১টার দিকে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক তাকে ধরে জেরা করতে করতে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ আখ্যা দেন এবং দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এক পর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন, চশমা খুলে ছুড়ে ফেলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

এই মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনো অপরাধ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ছিল। এভাবে প্রকাশ্যে একজন অশীতিপর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনা খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করে।

ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের ঝিলপাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা খগেন্দ্রনাথ প্রামাণিককে তাঁর বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

এই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা সুজন কুমার প্রামানিক এই ঘটনাকে তার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা বলে উল্লেখ করেন। তবে ওই ঘটনায় জড়িত কারো নাম জানা যায়নি।

৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাঙচুরে বাধা দিতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার নাসির মিয়া।

২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি বাজারে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা চাষি আব্দুর রহমানকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। সাত-আটজনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করে চলে যায় বলে জানা গেছে।

২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের সখীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মিছিলে হামলার অভিযোগে করা একটি মামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে তোলা হয়। মামলার এজাহারে আইয়ুব খানের বয়স লেখা হয় ৩২ বছর। জানা গেছে, তার বয়স ৭২ বছর।

ওই বছর ৫ মার্চ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মুছা মিয়ার কাছে চাঁদা দাবি করে স্থানীয় সন্ত্রাসী জিলানী মিয়া ও তাঁর বাহিনী। টাকা না পেয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় মুসা মিয়া আহত হন।

১ জুন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের ওপর হামলা করা হয়। ওই ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জব্বারের একটি জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন নিতাই ইউনিয়নের পানিয়ালপুকুর এলাকার আবু বরক সিদ্দিকসহ প্রভাবশালীরা। ৫ আগস্টের পর জমি দখলের চেষ্টায় জোর পায়। কিন্তু দখলে বাধা দেওয়ায় ওই মুক্তিযোদ্ধাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়।

২২ জুন রাজধানীর উত্তরায় সাবেক সিইসি মুক্তিযোদ্ধা কে এম নূরুল হুদা মবের হাতে লাঞ্ছিত হন। তাঁর গলায়ও জুতার মালা পরানো হয়।

১৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পরমেশ্বরদী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান হামলার শিকার হন। বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী কামাল, ঈমান হোসেন, রাজীব মিয়া তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। জানতে চাইলে সোনারগাঁও থানার ওসি রাশেদ খান বলেন, অভিযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা আর বিষয়টি নিয়ে আগাননি।

৬ অক্টোবর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের জেরে মুক্তিযোদ্ধা এস এম শাহাদুল ইসলামকে (৮০) লাঞ্ছিত করা হয়।

২৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুল এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোক্তার হোসেন মিন্টুর বাড়ি দখলে নিতে হামলা চালায় স্থানীয় মনির হোসেন মুকুল, নিলয়, নির্জনসহ কয়েকজন। মোক্তার হোসেন মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী সাহাবানু ও মেয়ে লিপি আক্তার সেখানে বসবাস করে আসছেন।

লিপি আক্তার বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ওরা বাড়িটি দখলের চেষ্টা করে আসছে। আগে ওরা এতটা সাহস দেখাতে পারেনি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা দফায় দফায় আমাদের বাড়ি দখলের চেষ্টা করেছে। আমরা সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় থাকি। বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। আর আমরা স্বাধীন দেশে ভয়ে থাকি।’

২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নিজের কেনা জমি দখল করে ঘর নির্মাণ এবং তাঁর যাতায়াতের পথে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী তালুকদার। এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং প্রতিকার চেয়ে গত ১৪ মার্চ দুপুরে ভূঞাপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ওই মুক্তিযোদ্ধা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com