সম্প্রতি কক্সবাজারের রামু উপজেলার মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কয়েকটি হোটেলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ছয়জন চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয় এবং তাদের কাছ থেকে প্রায় দুই হাজার আইফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। শুরুতে তারা স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করার কথা বলে আত্মগোপনে থাকলেও, পরবর্তীতে তাদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত তদন্ত দল এবং চীনা সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনার পরই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই চক্রটি মূলত স্টারলিংক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অনলাইন শেয়ারবাজার, জুয়া এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কারেন্সি বা মুদ্রা সংক্রান্ত প্রতারণামূলক কার্যক্রমে লিপ্ত ছিল। অভিযুক্তদের পাসপোর্ট আগেই ব্লক করে দেওয়া হয়েছিল এবং ইমিগ্রেশনসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্কতা জারি থাকার কারণে তারা দেশত্যাগ করতে ব্যর্থ হয়। স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, রামুর মেরিন ড্রাইভের ব্লু ওশ্যানসহ কয়েকটি হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিলেন।
বর্তমানে জব্দ করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই প্রতারক চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক এবং অপকর্মের ধরন উন্মোচনের চেষ্টা চলছে। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সিআইডিসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট যৌথভাবে এই মামলার তদন্ত পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানিয়েছেন যে এই চক্রের সঙ্গে দেশি বা বিদেশি অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।