জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৭ আসামির বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক এই মামলার রায় ঘোষণার সময় এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে যে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পেশ করা প্রতিটি অভিযোগই বিচার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মোট চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে এই চারটি অভিযোগের একটিরও পক্ষে কোনো ধরনের খণ্ডনযোগ্য প্রমাণ বা যুক্তি দেখাতে পারেননি আসামিপক্ষ। বরং প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা আদালতের কাছে সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ে অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম প্রধান আসামি কাদেরসহ মোট সাতজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বিচারকমণ্ডলী তাদের রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংসতা এবং মানবতাবিরোধী কার্যক্রমের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। ট্রাইব্যুনালের এই যুগান্তকারী রায় দেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের গণআন্দোলন দমাতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের বিচার কার্যক্রমে এই রায়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। রায় ঘোষণার পর থেকেই দেশের আইন অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকে।