March 24, 2026, 4:06 am
Title :
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, আমাদের ঠিকানা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী খামেনিকে হত্যার নেপথ্যে ছিল ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এক সুপরিকল্পিত ছক দেশে এখন ‘মামলা বাণিজ্য’ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে: রুমিন ফারহানা অবসরের ২ বছর তবুও বাংলো ছাড়েননি সাবেক সচিব ওয়াছি উদ্দিন কক্সবাজারে আসামী ধরতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোনকল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর, যে কথা হলো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে মনোযোগ দিতে বিএনপির পদ ছাড়লেন শাহে আলম আমিনুল, জাইমা এবং আমাদের সংকীর্ণতার আয়না ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ৭৭তম বারের মতো হামলা ইরানের বিয়ের অনুষ্ঠানে বরকে ৫ লিটার অকটেন উপহার

খামেনিকে হত্যার নেপথ্যে ছিল ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এক সুপরিকল্পিত ছক

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, March 24, 2026
  • 11 Time View

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার নেপথ্যে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এক সুপরিকল্পিত ছক। মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার ঠিক ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে এক ফোনালাপে এই হত্যার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জানতে পারেন, খামেনি ও তার শীর্ষ সহযোগীরা তেহরানে একটি বৈঠকে বসবেন। কিন্তু বৈঠকটি শনিবার রাতের পরিবর্তে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এগিয়ে আনা হয়। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের সুযোগ কাজে লাগাতেই নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার জন্য রাজি করান। এই ফোনালাপের পরই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের ওই সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান, খামেনিকে হত্যার এমন সুযোগ আর নাও আসতে পারে। ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার যে ছক ইরান কষেছিল, এটি হতে পারে তার মোক্ষম প্রতিশোধ। তাছাড়া খামেনিকে হত্যা করা গেলে ইরানিরা রাস্তায় নেমে আসতে পারে এবং ১৯৭৯ সালের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটতে পারে বলেও ট্রাম্পকে প্ররোচিত করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও পরে ইঙ্গিত দেন যে, ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার প্রতিশোধ নেয়াই ছিল এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে আনার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এর আগে গত জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় যৌথ হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে সেই হামলায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না নেতানিয়াহু। ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সাথে এক বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে অসন্তোষ জানান।

পরে দুটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় হামলায় উৎসাহিত করে: এক. জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বিনা রক্তপাতে ও মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ছাড়াই আটকের পর মার্কিন প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। দুই. একই সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) ও মার্কিন সেন্টকমের মধ্যে গোপন বৈঠক ও সামরিক পরিকল্পনা জোরদার হয়। ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ট্রাম্পকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

হামলার আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং গোয়েন্দারা সতর্ক করেছিলেন যে, খামেনিকে হত্যা করা হলে ইরান মার্কিন ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাবে। বাস্তবে সেটাই ঘটেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২ হাজার ৩০০-এর বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তেলের দামেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে, যার ভুক্তভোগী এখন গোটা বিশ্ব।

ট্রাম্প ইরানে গণ-অভ্যুত্থানের আশা করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পূর্বাভাসই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর তার চেয়েও কট্টর আমেরিকা-বিরোধী হিসেবে পরিচিত তার ছেলে মোজতাবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রেভল্যুশনারি গার্ডের কড়া পাহারায় লাখ লাখ ইরানি এখনও গৃহবন্দি অবস্থায় দিন পার করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com