সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই শারিরীক অসুস্থতা নিয়ে জটিল সময় পার করছিলেন। এ অবস্থার মধ্যেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন এই নেত্রী। তিনি দিনাজপুর- ৩ (সদর), ফেনী-১ ও বগুড়া-৭ (গাবতলী) এ তিনটি আসন থেকে প্রার্থী হন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এসব আসনের নির্বাচন স্থগিত হবে কিনা নির্বাচনি আইনে কী রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসাররা জানান, তিন আসনে ভোটের কার্যক্রম চলবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু হওয়ায় ভোটের কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে না।
বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করে পুনঃতফশিল করার বিধান রয়েছে। বাছাইয়ের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যু হওয়ায় মনোনয়নপত্র স্থগিত থাকবে। তবে নির্বাচন বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।
আইন যা বলছে
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭(১) অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন নাই এইরূপ কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে, অনুচ্ছেদ ৯১ঙ এর দফা (২) এর অধীন কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হইলে, রিটার্নিং অফিসার, গণবিজ্ঞপ্তি দ্বারা, সংশ্লিষ্ট নির্বাচন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বাতিল করে দেবেন।
যেক্ষেত্রে দফা (১) এর অধীন কোনো নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল করা হয়, সেই ক্ষেত্রে এই আদেশের অধীন নতুন কার্যক্রম এরূপভাবে শুরু করতে হবে যেন এটা একটি নতুন নির্বাচন; তবে শর্ত থাকে যে, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নতুন মনোনয়নপত্র দাখিল করবার বা অনুচ্ছেদ ১৩ এর অধীন পুনরায় অর্থ জমা প্রদানের কোনো প্রয়োজন হবে না।
১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো কারণে মনোনয়ন বাছাই বা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম নির্ধারিত তারিখে সম্পন্ন করা সম্ভব না হয়, সেই ক্ষেত্রে তিনি উক্তরূপ কার্যক্রম স্থগিত বা মুলতবি করতে পারবেন এবং কমিশনের অনুমোদনক্রমে, গণবিজ্ঞপ্তি দ্বারা, উক্তরূপ স্থগিত বা মুলতবিকৃত কার্যক্রমের জন্য অন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করতে এবং প্রয়োজন হলে, পরবর্তী কার্যক্রমের জন্যও এক বা একাধিক তারিখ নির্ধারণ করতে পারবেন।
এ বিষয় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, আইনে যেহেতু বলা আছে বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে তফশিল বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই তফশিলে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, উনি এখনো বৈধ প্রার্থী হননি। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার অবস্থা বিবেচনায় বিএনপি উনার (খালেদা জিয়া) আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে। কাজেই এটা নিয়ে সমস্যা হবে না বলে আমি মনে করি।