গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে শুরু করেছে ইউরোপের সামরিক শক্তিগুলো। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ফ্রান্স ও জার্মানির সেনা সদস্যরা গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন।
জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে একটি এয়ারবাসে করে ১৩ সদস্যের একটি জার্মান নজরদারি দল গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ পৌঁছায়।
এর আগে বুধবার রাতে ডেনিশ বিমান বাহিনীর একটি বিমান নুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে সামরিক পোশাক পরা একাধিক সেনা সদস্যকে নামতে দেখা যায়।
গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েনে যুক্ত হয়েছে ফ্রান্সও। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ‘ফ্রান্সের প্রথম সামরিক দল ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে, আরও সেনা পাঠানো হবে।’
পোল্যান্ডে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত অলিভিয়ে পোয়াভো দাভো বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা ফরাসি দলে প্রায় ১৫ জন পর্বত বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চাই—ন্যাটো এখানে উপস্থিত। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে নজরদারি সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’
জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানায়, ডেনমার্কের অনুরোধে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি নরওয়ে দুজন এবং সুইডেন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ডসহ আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সেনা মোতায়েন করছে ডেনমার্ক ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় তারা।
রয়্যাল ডেনিশ ডিফেন্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মার্ক জ্যাকবসেন রয়টার্সকে বলেন, ‘ইউরোপীয় সামরিক উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি পরিষ্কার বার্তা। এর একটি উদ্দেশ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হস্তক্ষেপের কথা ভাবে, তাহলে দেখানো যে আমরা গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় প্রস্তুত। আরেকটি উদ্দেশ্য হলো—নিজেদের নজরদারি ও উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা।’
বুধবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রশ্নে ওয়াশিংটন এখনো তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে ডেনমার্ক একা সক্ষম নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রেরই দ্বীপটির মালিক হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো ইস্যু মিত্রদের মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত বলে তাদের অবস্থান।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবশালী দেশগুলো ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে বড় পরিসরের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।