চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে এবং সম্প্রতি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে আরও ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছেন। এই ধারাবাহিক সংক্রমণের ফলে বন্দরনগরী ও এর আশপাশের এলাকায় জনমনে ডেঙ্গু আতঙ্ক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৃত দুই নারীর নাম অর্পিতা (২৬) এবং শামসুন নাহার খানম (৫০)। তারা দুজনেই ডেঙ্গুর অত্যন্ত মারাত্মক জটিলতা তথা ‘এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিন্ড্রোমে’ আক্রান্ত ছিলেন। মৃত অর্পিতা চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, আগ্রাবাদের বাসিন্দা শামসুন নাহার খানমকে অন্য একটি হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তের পর এভারকেয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ৮৭ জনের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী অর্থাৎ ৭৭ জন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাকি ১০ জন রোগী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাব করলে চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জনে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৪৫৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪২৬ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মারা যাওয়া এই ১২ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ আটজন মারা গেছেন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর জটিলতা এড়াতে সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।