ফারাক্কা বাঁধের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে দেশকে বাঁচাতে বিএনপির চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘চলো জি ভাই, হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই’ ব্যানারে জনসভা হয়েছে। জেলায় পদ্মা বাঁচাও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এটি ছিল বিএনপির পঞ্চম এবং সদর উপজেলায় দ্বিতীয় সমাবেশ।
আগামী ১৫ নভেম্বর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান অতিথি করে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠেয় মহাসমাবেশকে সামনে রেখে সোমবার জেলা শহরের আলিনগর স্কুল মাঠে এ আয়োজন করা হয়। সদর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী হারুনুর রশিদ।
সভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদ বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ এবং ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে পদ্মার অববাহিকার নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই আগামী ১৫ নভেম্বর অন্তত একটা দিন সব কাজ রেখে পদ্মা বাঁচাও আন্দোলনে সবাই শরিক হবেন। বিএনপির এ উদ্যোগ চালু রাখতে এরপর রাজশাহী ও নাটোর হয়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে মহাসমাবেশ করে জনমত গড়ে তোলা হবে।
হারুনুর রশিদ আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পানি সংকট নিরসনের জন্য গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণে প্রকল্প নিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে খালেদা জিয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টায় একনেক থেকে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন হয়। ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের সমীক্ষাও জমা হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকারের ভারতপ্রীতির কারণে সেই সমীক্ষাটি চলে গেছে ডিপ ফ্রিজে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। নির্বাচিত হলে জেলা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করার ঘোষণা দেন তিনি।
সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাধারণ জনগণ কোনো না কোনো দলের সমর্থক থাকতে পারেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী কোনো দলের প্রচারণায় অংশ নিলে বা নির্বাচনের সময়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে নির্বাচনের পর তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
জামায়াত প্রসঙ্গে হারুনুর রশিদ বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে একটি দল পিআর ও গণভোট চায়। তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি শুধু রাজনৈতিক সভা নয়। এটি পদ্মা নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবন রক্ষার জন্য সচেতনতামূলক সভা। পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে নিয়ে সামাজিক এ আন্দোলনে যোগ দিতে হবে। তবেই উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৭টি নদীকে বাঁচাতে পারব।