মালয়েশিয়ায় পাঠানো ১৮ হাজার ৫৬৩ শ্রমিকের ৩১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
অভিযোগ করা হয়, আসামিরা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠনের (বায়রা) নিবন্ধনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। প্রতিজনের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ১৮ হাজার ৫৬৩ শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। কর্মীদের পাসপোর্ট করার জন্য ১০ হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৭ হাজার ৫০০ টাকা। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিগত সরকার দলের প্রভাব খাটিয়ে মালয়েশিয়া গমন করা কর্মীদের অর্থ আত্মসাৎ করেন। কর্মীরা নিজ খরচে পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেও তাদের পাসপোর্টের ফি বাবদ ১০ হাজার টাকা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাবদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।
মালয়েশিয়ায় পাঠানো ৩ হাজার ৪৮৬ জনের ৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সেলিব্রিটি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফারিদা বানু ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করা হয়। ৩ হাজার ৮৫২ শ্রমিকের কাছ থেকে ৬৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অদিতী ইন্টারন্যাশনালের মালিক বিশ্বজিৎ সাহার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি করা হয়।
তিন হাজার ১৪৮ শ্রমিকের সঙ্গে প্রতারণা করে ৫২ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাব্বি ইন্টারন্যাশনালের মোহাম্মদ বশিরের বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলা করা হয়। ভিং এন্টারপ্রাইজের মালিক হেফজুল বারী মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে আট হাজার ৭৭ শ্রমিকের কাছ থেকে ১৩৫ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অন্য মামলাটি করা হয়েছে।