August 19, 2026, 12:46 am
Title :
সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মারা গেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরে অত্যন্ত সম্মানজনক সংবর্ধনা দেবে দিল্লি : দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গতি সীমাসহ ট্রাফিক আইন ভাঙলেই অটো ফাইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে আপত্তি, সরকারের সমালোচনা মোড়ক উন্মোচন: কালোত্তীর্ণ হবে ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ এখন ইইডির প্রধান প্রকৌশলী হতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতার দৌড়ঝাঁপ দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক মিয়ানমারের বিবৃতির সাথে একমত নয়, রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে জানাল ঢাকা ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় রিসোর্ট দখল, ছাত্রদল নেতার নামে মামলা প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা

জুলাইয়েই ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে কিছুটা অগ্রগতি

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 22, 2026
  • 31 Time View

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর কেটে গেছে পাঁচ মাস। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। দীর্ঘ প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের কারণে তাঁদের নিয়োগ আটকে আছে। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব আর অনিশ্চয়তায় প্রার্থীরা যখন চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই কিছুটা আশার খবর এসেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার জানিয়েছেন, চলমান গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের কাজ প্রায় শেষ। চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই এই রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিয়ম মেনে নিয়োগের পরবর্তী কাজ শুরু হবে।

মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও প্রার্থীরা একে খুব বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের মতে, পাঁচটা মাস চরম অনিশ্চতায় ঘরে বসে থাকার যে মানসিক ও আর্থিক কষ্ট, তা কেবল দ্রুত নিয়োগপত্র পেলেই শেষ হবে।

উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা

প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশন দ্রুত শেষ করা হয়। কিন্তু শেষ ধাপে বিশেষ নিরাপত্তা ভেরিফিকেশন যুক্ত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি আটকে যায়।

চূড়ান্তভাবে টিকে গেছেন জেনে অনেকেই আগের চাকরি বা কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে পাঁচ মাস ধরে কোনো আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার নিয়ে তাঁদের চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। পদে পদে আত্মীয়স্বজন ও সমাজের মানুষের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রার্থী বলেন, ‘সব পরীক্ষায় পাস করেও একটি রিপোর্টের জন্য এতগুলো মাস বসে থাকা খুব যন্ত্রণার। এখন বলা হচ্ছে চলতি মাসেই রিপোর্ট জমা হবে। আমরা চাই আর দেরি না করে দ্রুত যেন আমাদের স্কুলে যোগদানের ব্যবস্থা করা হয়।’

মাঠপর্যায়ের তীব্র শিক্ষকসংকট

এদিকে মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এখন শিক্ষকের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা স্বাভাবিক রাখতে নতুন শিক্ষক প্রয়োজন। এর মধ্যে আদালতের আদেশের পর ৩৬ হাজার ২৩৫ জন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন। তাঁরা পদোন্নতি পেয়ে নতুন পদে গেলে সহকারী শিক্ষকের পদগুলোতে বড় ধরনের নতুন শূন্যতা তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে সারা দেশে পদোন্নতি ও স্বাভাবিক অবসরের কারণে বর্তমানে প্রায় ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ ফাঁকা হওয়ার পথে। এমন পরিস্থিতিতে এখন আটকে থাকা ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক দ্রুত যোগদান করতে পারলে মাঠপর্যায়ের এই তীব্র জনবল সংকট কিছুটা কমত।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ভেরিফিকেশন জরুরি, তা প্রার্থীরাও মানেন। তবে এই প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে একদিকে যেমন হাজারো তরুণের জীবন থমকে গেছে, অন্যদিকে সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি স্কুলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com